নৌ পথে জঙ্গি আসার খবরে কেরালা উপকূলে সতর্কতা

আন্তর্জাতিক : ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ১৫ জঙ্গি একটি নৌকা নিয়ে শ্রীলঙ্কা থেকে রওনা হয়েছে- এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের কেরালা উপকূলজুড়ে জারি করা হয়েছে কড়া সতর্কতা। কেরালা পুলিশের অতিরিক্ত মহা পরিদর্শক (উপকূলীয় নিরাপত্তা) টোমিন থাসানকেরি গত ২৩ মে রাজ্যের ৫৮০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে থাকা ৭২টি থানা কর্তৃপক্ষকে এই সতর্কবার্তা পাঠান।

সতর্কবার্তায় ভারতের বাইরে থেকে আসা সব ধরনের নৌযানের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপকূল রেখা বরাবর পুলিশের টহল জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে কেরালার রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে পুলিশ বিভিন্নন হোটেল ও রেস্ট হাউজে অভিযান চালাচ্ছে যাতে সন্দেহভাজন কেউ কোনো হোটেলে আশ্রয় নিতে না পারে। পাশাপাশি ফিশিং বোটের মালিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে সাগরে থাকা জেলেদের সতর্ক করা যায়।

পুলিশের পাশাপাশি ভারতের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রীলঙ্কা হামলায় জড়িতদের কোনো সমর্থক কেরালায় থাকলে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা-এনআইএর।

গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের প্রার্থনার মধ্যে শ্রীলঙ্কার কয়েকটি গির্জা ও পাঁচ তারকা হোটেলে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় আড়াইশর বেশি মানুষ নিহত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি দল আইএস পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করে বার্তা দেয়। মে মাসের শুরুতে তারা প্রথমবারের মতো ভারতে একটি ‘প্রদেশ’ প্রতিষ্ঠারও দাবি জানায়।

হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সাদা রঙের নৌকায় চেপে শ্রীলঙ্কা থেকে রওনা হওয়া সন্দেহভাজন ওই আইএস জঙ্গিরা লাক্ষাদ্বীপ ও মিনিকয় দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে বলে তথ্য রয়েছে কেরালা পুলিশের হাতে।

পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, ওই নৌকায় থাকা জঙ্গিদের সংখ্যা নিয়ে খুবই স্পষ্ট তথ্য রয়েছে তাদের হাতে। আর এই তথ্য দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দাদের তরফ থেকে।

গত মাসে কেরালায় আত্মঘাতী হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে এনআইএ ২৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে।

আনন্দবাজার লিখেছে, ‘‘গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় জঙ্গিদের ঘটানো একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই এমন একটা কিছু ঘটতে পারে বলে আঁচ করা হয়েছিল। গত ২৩ মে কলম্বোর পাঠানো গোপন বার্তায় সেই আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে।’’

কেরালা পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, “এমন সতর্কবার্তা মাঝেমধ্যেই আসে উপকূল পুলিশের কাছে। কিন্তু এবার যেভাবে জঙ্গিদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, তাতে কলম্বোর ওই বার্তাটিকে যথেষ্টই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সঠিক তথ্য হাতে না থাকলে এভাবে জঙ্গিদের সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।”

একুশে/ডেস্ক/এসসি