মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ওসি সাইরুলের

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯, ৭:০৯ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার ওসি সাইরুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন তিনি।

গত ২৮ মে ওসি সাইরুলের সম্পদের পাহাড় শিরোনামে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার (১১ জুন) বিকেলে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত প্রতিবাদপত্রটি একুশে পত্রিকার কার্যালয়ে পৌঁছানো হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে ওসি সাইরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকাশিত সংবাদে আমার ও পরিবারের সম্পদের বিষয়ে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া, সাজানো ও বাস্তবতা বিবর্জিত। আমরা যৌথ পরিবারে বসবাস করি। সম্পদসমূহ আমাদের পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত ও আমার ভাইয়ের ব্যবসায়িক অর্জিত সম্পত্তি। যার বৈধ কাগজপত্র আমাদের আয়কর বিবরণীতে দাখিল করা হয়েছে। উক্ত সম্পত্তি শতভাগ আইনী প্রক্রিয়ায় রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রতি বছর সরকারী কোষাগারে আয়কর প্রদান করা হয়।’

‘বসুন্ধরার প্লটটি কিস্তির মাধ্যমে ২০০৪ সালে ক্রয় করা হয়। আমার ভাই সাইফুল ইসলাম উক্ত কিস্তির টাকা পরিশোধসহ যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উক্ত প্লটের উন্নয়ন কাজ করছেন। যশোরের ৪ কাঠা জায়গাটি প্রায় ২৩ বছর আগে আমার বাবা ৪৫ হাজার টাকায় কিনেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে সৌমিক হাসান যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ হার্টফোরশায়ারে এয়ার স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার ইন্টার্নশীপের অংশ হিসেবে সে বিমানে পার্টটাইম কাজ করে। যার ছবি সে তার ফেইসবুক আইডিতে আপলোড করেছে।’

বোয়ালখালীর ওসি সাইরুল ইসলামের দাবি, তিনি নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার হিলভিউ সোসাইটির কোন ফ্ল্যাটে থাকেন না এবং সেখানে তার নিজের কোনো ফ্ল্যাট নেই। ঢাকাতেও তার কোনো ফ্ল্যাট বা গাড়ির ব্যবসা নেই জানিয়ে তার ছোট ভাই একক মালিকানাধীন ব্যবসা করেন বলে দাবি করেন ওসি সাইরুল।

‘থানা পুলিশের কার্যক্রম নিদিষ্ট আইনের মাধ্যমে চলে, কোনো ব্যক্তি বিশেষের কথায় নয়। ফলে বোয়ালখালী বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন খান মুকুলের সঙ্গে পরামর্শের অভিযোগটি মোটেও সত্য নয়। এ ছাড়া সরকারবিরোধী কোনো সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীর সাথে আমার সখ্যতা নেই। যথাযথ নিয়মকানুন ও আইন অনুসরণ করে আমি ডিউটি পরিচালনা করছি। যার ফলশ্রুতিতে বোয়ালখালী থানার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক।’ বলেন ওসি সাইরুল ইসলাম।

প্রতিবাদপত্রে ওসি সাইরুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি চান্দগাঁও থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্বপালনের সময় মৌলভী পুকুর পাড় গাবতলা এলাকা থেকে চারটি নকল চুড়িসহ জোসনা নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে নকল স্বর্ণের মূল হোতা ঝর্ণা ও মিটুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোজিনাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন মামুন। কাজ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে তিনি ফেইসবুকে মিথ্যা, বানোয়াট ও বাস্তবতা বিবর্জিত তথ্য পোস্ট করে আসছেন। উল্লেখিত কুচক্রী মহল ক্ষিপ্ত হয়ে আমি ও আমার পরিবারকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বার বার উক্ত সংবাদ পরিবেশন করেছে। উক্ত সংবাদের কারণে আমি ও আমার পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
এই প্রতিবেদনটি দুদকে জমা হওয়া আয়শা আকতার কাকলী নামের এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুদক পরিচালক বরাবর পাঠানো ওই অভিযোগের একটি অনুলিপি একুশে পত্রিকার হাতে রয়েছে।

সাইরুল ইসলামের আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ আছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লটে রেজিস্ট্রি খরচসহ উক্ত জমির উপর ৮ তলা নির্মাণাধীন ভবনে তিনি ১ কোটি ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৮০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। অথচ আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, উক্ত ভবনের বর্তমান বাজার মূল্য ১১ কোটি টাকা হতে পারে; প্রতিবেদনে উক্ত তথ্যই শুধুমাত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে ওসি সাইরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তার বাবা ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে যশোরের ৪ কাঠা জমিটি কিনেছিলেন ২৩ বছর আগে। অথচ আয়কর বিবরণীতে ওসি সাইরুল তথ্য দিয়েছেন, ৫০ হাজার টাকা দিয়ে যশোরে ৬ দশমিক ৬০ শতক জমিটি তিনিই কিনেছেন। অন্যদিকে যশোরের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক একুশে পত্রিকাকে জানিয়েছেন, ৫০ হাজার টাকা ট্যাক্স ফাইলে দেখালেও উক্ত জমিটি অনেক দামি; যার মূল্য হতে পারে সর্বোচ্চ ৬৬ লাখ টাকা।

সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি সাইরুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল; সে সময় তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। এগুলো করে কি লাভ? এ অভিযোগগুলোর কোন সত্যতা নেই।’ আবার পরক্ষণে ওসি সাইরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত, পারিবারিক সম্পদ থাকতে পারে না? এটা কী কথাবার্তা।’