
চট্টগ্রাম : একুশে পত্রিকায় গত ১ জুন ২০১৯ ‘ওমর গণি এমইএস কলেজে অচলাবস্থা কাটছেই না’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলেজটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তহমিনা আখতার। একুশে পত্রিকায় ইমেইল করে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।
তাতে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পূর্বের প্রচলিত নিয়মেই সব কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে এবং কলেজের কোনো রেজুলেশনের ব্যত্যয় ঘটেনি। যে ক্ষেত্রে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে সেক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে সমাধান করা হয়েছে। মূলত ননএমপিও শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পূরণ না করায় বিশৃঙ্খলা ও অচলাবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে তহমিনা আখতার ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, সরকারি ইনক্রিমেন্ট মার্চ মাসেই কর্তন করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ‘এমপিও শিক্ষকদের মনগড়া ও নিয়মবহির্ভূত খাত’, অবৈধ খাত ইত্যাদি বলে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদকে অসম্মান করা হয়েছে। অত্র কলেজের পরিচালনা পর্ষদে সবসময় বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। রিপোর্টে উল্লেখিত ভাতাদি আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়ে সভায় গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং অর্থ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বসম্মতিক্রমে বিধিমত নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ১৯৯৩ সাল থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
একুশে পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওমর গণি এমইএস কলেজের সকল এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী এবং কেবলমাত্র তিনজন ননএমপিও কর্মচারী মূল বেতনের ২০ শতাংশ নগরভাতা, ৩০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে উত্তোলন করছেন; ১৯৯২ সাল থেকে। এ জাতীয় ভাতাদির সুবিধা থেকে তিনজন ছাড়া বাকি ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা বঞ্চিত।
এ কারণে কলেজটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার উক্ত খাতগুলো পরিহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন।
এ বিষয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তহমিনা আখতার বলেন, উল্লিখিত ভাতাদি স্থগিত করা হয় পরিচালনা পর্ষদের গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভায়। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিল যথাসময়ে করা হয়েছিল। ননএমপিও শিক্ষকরা বিলে গত ১২ মে পর্যন্ত স্বাক্ষর না করায় শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হয়।
তিনি আরো বলেন, বৈশাখী ভাতার বিলও যথাসময়ে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ওই সময়ে দেশের বাইরে থাকার কারণে তা পেতে দেরী হয়। সভাপতির মৌখিক নির্দেশ ছিল (২৫ মার্চ) যারা বেতন বিলে স্বাক্ষর করেছে তারাই বেতন পাবেন। তাই কাউকে বেতন প্রদান বিধিবহির্ভূত হয়েছে তা বলার এখতিয়ার সংশ্লিষ্টদের নেই।
তহমিনা আখতার বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক নিয়োগের সময় তৎকালীন স্থায়ী অধ্যক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নিয়োগ দিয়েছেন। পরিচালনা পর্ষদের রেজুলেশন, এমপিও, ননএমপিও ও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মাবলী ও নির্বাহী আদেশের বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসন্ধান না করে এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কোনো বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : ননএমপিও শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১ জুন প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৬ মে নতুন অধ্যক্ষ আবু নসর মুহাম্মদ সরোয়ার আলমকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তহমিনা আখতার। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় কলেজে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে পারেনি একুশে পত্রিকা। তবে নতুন অধ্যক্ষ আবু নসর মুহাম্মদ সরোয়ার আলমের বক্তব্য ছিল প্রতিবেদনে।
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তহমিনা আখতার যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেছেন, ‘প্রচলিত নিয়মেই’ সব কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে ও সমস্যা দেখা দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে সমাধান করা হয়েছে।
অথচ সুস্পষ্ট অভিযোগ আছে, তহমিনা আখতার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে এমপিও শিক্ষকরা দুই খাত (সরকারি অনুদান ও কলেজ ফান্ড) থেকে ইনক্রিমেন্টসহ বেতন বিল গ্রহণ করে যাচ্ছিলেন। গত বছরের জুন-জুলাই থেকে গৃহীত অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট কর্তন না করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এর বেতন বিল উপস্থাপন করেন। এ কারণে বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকে শিক্ষক কর্মচারীরা। তবে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারী অনুদান ঠিকই পেয়ে যাচ্ছিলেন প্রতি মাসে। সরকারি ইনক্রিমেন্ট নয়, কলেজ ফান্ড থেকে প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট কর্তনের জন্য বলা হলেও তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি।
বেসরকারি কলেজ শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, নারী কোটা থাকলে নিয়োগ বিজ্ঞাপনে বিষয়টি জানাতে হবে। পরপর দুইবার এ জাতীয় বিজ্ঞাপনের পর যদি নারী প্রার্থী পাওয়া না যায় তবেই পুরুষ প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। ওমরগণি এমইএস কলেজে এ নিয়ম লঙ্ঘন করা হয় বলে সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়।
ইংরেজি ও গণিত বিভাগে নারী কোটা না থাকা সত্ত্বেও এবং মেধাতালিকায় পুরুষ প্রার্থী থাকার পরও নিয়মবহির্ভূতভাবে নারী শিক্ষকের এমপিও হয়। শুধু তাই নয়, একজন শিক্ষক ননএমপিও থাকাকালীন সময়ে উক্ত তিন বছর সরকারি অনুদান ও কলেজ ফান্ড থেকে ননএমপিও ভাতাসহ উত্তোলন করেন। এ জাতীয় সুযোগ অন্য কোনো ননএমপিও শিক্ষককে দেয়া হয়নি, যদিও তারা বার বার আবেদন করেছিলেন।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বৈশাখীভাতা বৈশাখ মাস শুরুর আগেই প্রদান করতে পারতেন। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ২ বৈশাখ তাঁর কার্যালয়ে ছিলেন।
বর্তমান অধ্যক্ষ আবু নছর মোহাম্মদ সরোয়ার আলম দায়িত্ব নেয়ার পর ওমর গণি এমইএস কলেজে অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। তিনি ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল ও মে মাসের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা নিয়েছেন।
