
আন্তর্জাতিক : কায়রোতে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সমাহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মুরসির আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১৮ জুুন) পূর্ব কায়রোতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সাবেক এ মুসলিম ব্রাদারহুড নেতার দাফন সম্পন্ন হয়।
সোমবার এক মামলার শুনানিতে আদালত কক্ষেই অচেতন হয়ে পড়েন ৬৭ বছর বয়সী এ সাবেক প্রেসিডেন্ট। কর্তৃপক্ষ পরে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
২০১৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মুরসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন।
মুরসির মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
তাঁর পরিবার ও সমর্থকরা আগে থেকেই মুরসির স্বাস্থ্য এবং তাকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্জন প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা মুরসির শেষকৃত্য তার নিজশহরে আয়োজন করতে চাইলেও মিশরের কর্তৃপক্ষ তাতে সম্মতি দেয়নি বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন সাবেক এ প্রেসিডেন্টের ছেলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ মুরসি।
মোহাম্মদ বলেন, টোরা কারা-হাসপাতালে আমরা তাকে গোসল করিয়েছি। তার জানাজার নামাজ আদায় করেছি এবং তাকে দাফন করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এবং একটি মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, সোমবার আদালতে মামলার শুনানির সময় মোহাম্মদ মুরসি বিচারকের কাছে কথা বলার অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয়। প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য রাখার পর হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন মুরসি।
সে সময় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
দেশটিতে প্রথমবারের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন মোহাম্মদ মুরসি। মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মুরসির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
১৯৫১ সালে আল-আদওয়াহ গ্রামে জন্ম নেওয়া মুরসি গত শতকের ৭০-এর দশকে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিষয়ে পড়েন; পরে পিএইচডি করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান।
মিশরে বর্তমানে নিষিদ্ধ মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতা মুরসি ২০১২ সালে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তার শাসনামলে দমনপীড়ন ও অর্থনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ দানা বাধে। মুরসির শপথ গ্রহণের বছরপূর্তিতে মিশরজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখা দেয়।
এর তিনদিন পর সেনাবাহিনী মিশরের সংবিধান স্থগিত করে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
একুশে/ডেস্ক/এসসি
