বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

‘সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্য-অধিকার আইন সরকারি সদিচ্ছার মাইলফলক’

তথ্য-অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির মতবিনিময় সভায় আজাদ তালুকদার

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুন ২০, ২০১৯, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তথ্য-অধিকার আইন বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার ‘মাইফলক’ বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন-কক্ষে তথ্য-অধিকার বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম বিভাগ ও জেলা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তথ্য-কমিশনার সুরাইয়া বেগম এনডিসি’র মতবিনিময় অনুষ্ঠানে একুশে পত্রিকা সম্পাদক আলোচনায় অংশ নিয়ে এই কথা বলেন। তথ্য-অধিকার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম নিজামী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসান, চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ পরিচালক ড. গোলাম মাওলা, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক ব্যবসায়ী নেতা মাহফুজুল হক শাহ, বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তার প্রমুখ।

আজাদ তালুকদার বলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তিন মাসের মাথায় শেখ হাসিনার সরকার সংসদে তথ্য-অধিকার আইন পাশ করেন। এই আইন পাশের জন্য সরকারের কোনো চাপ ছিল না, দাবি ছিল না। সরকার স্বউদ্যোগে দেশে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যুগান্তকারী আইনটি পাশ করেন। প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে সরকার সেই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছিলেন। এজন্য আজকের অনুষ্ঠান থেকে সরকারকে আমি কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জানাতে চাই।

এসময় তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে জনগণের ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন সাংবাদিক আজাদ তালুকদার।

তিনি বলেন, জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান যেখানে হওয়ার কথা, ঠিক সেখানে নেই। ২০০৯ সালের ১ জুলাই তথ্য কমিশন গঠনের এক বছরের মধ্যে তথ্য সরবারের জন্য সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অনেক অফিসে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ হয়নি। সচেতনতার অভাবে কোন তথ্য জনগণ পাবে, কোন তথ্য পাবেন না সেই ধারণাও অনেকের মাঝে ঠিকমতো গড়ে উঠেনি। তথ্য চেয়ে মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও অনেকেই তথ্য পান না। উর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ দিয়েও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

একুশে পত্রিকা সম্পাদক বলেন, এর মাঝেও আমাদের জন্য সুখবর আছে। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরপর্বে দাঁড়িয়ে একটি আশা জাগানিয়া তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তথ্য-অধিকার আইন গঠনের পর ৯৯ হাজার ২৩৮টি তথ্য চাওয়া হয়েছিল, কমিশন তথ্য সরবরাহ করেছে ৯৫ হাজার ২২৩টি। ৩০৮৩ টি অভিযোগের মধ্যে ২৯৭২টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। ১১১টি অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

তথ্য না দেয়া এবং তথ্যপ্রদানে ন্যূনতম উদ্যোগ না নেয়ায় গতবছর জুলাই মাসে উপ সচিব পযমর্যাদার এক সহকারী ওয়াকফ প্রশাসককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনগণকে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এই উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিলে তথ্যঅধিকার বাস্তবায়ন খুব কঠিন নয় বলে মন্তব্য করেন একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার।

এছাড়া উপ পুলিশ কমিশনার (নগর বিশেষ শাখা) মন্জুর মোরশেদ, নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

একুশে/এসসি/এটি