শিশু সন্তানের কথা ভেবে ৫বছর জীবন এক্সট্রেনশন চেয়েছিলেন তরুণটি

arifচট্টগ্রাম: এই ছবিটির উচ্ছ্বল, উজ্জ্বল তরুণটি একবুক স্বপ্ন নিয়ে বর সেজেছিলেন আজ থেকে ৫ বছর আগে। নবপরিণিতাকে নিয়ে স্বপ্নের নীড় গড়তে চেয়েছিলেন। আর দশজনের মত আদর্শ বাবা হবেন, আদর্শ স্বামী হবেন- এমন আশা ছিল তাঁর। কিন্তু লিভারের ব্যাধি তাঁর সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ৩ বছরের সন্তানের দিকে চেয়ে আর ৫টা বছর বাঁচতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস; বাঁচতে পারেননি।

রাঙ্গুনিয়াস্থ নারিচ্চা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাস্টার মনিরুজ্জামানের সন্তানদের মধ্যে আরিফ চৌধুরী নিটন দ্বিতীয়। কর্মজীবনে ইলিয়াছ গ্রুপের অধীন পতেঙ্গা তেল ডিপোর ইনচার্জ ছিলেন তিনি। দেড় বছর আগে লিভার সিরোসিস- এ অাক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। ধরণা দিয়েছিলেন দেশ-বিদেশের নামকরা চিকিৎসকদের কাছে। এজন্য পরিবারের সবটুকু দিয়ে, অনেককে নিঃস্ব করেও বাঁচতে পারেননি। সবকিছু উজাড় করে দিয়ে, চিরতরে চলে গেলেন, নাই হয়ে গেলেন।

উন্নত চিকিৎসা নিতে ভারতের একটি হাসপাতালেও গিয়েছিলেন আরিফ চৌধুরী নিটন। দেশে ফিরে আসার কিছুদিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। অবশেষে সব ইচ্ছে, স্বপ্ন, আশা- সবকিছু ছাপিয়ে একটি স্যাতস্যাতে বেডে শুয়ে পরপারে পাড়ি জমালেন আরিফ চৌধুরী নিটন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আরিফ চৌধুরী নিটন (ইন্নালিল্লাহে ও ইন্নাইলাহি রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর। আজ বৃহস্পতিবার বাদ আছর তার গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার পদুয়ায় গ্রামের বাড়িতে মাদ্রাসা ঈদগাঁহে তাঁর জানাজা নামাজ হবে। এরপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এদিকে আরিফ চৌধুরী নিটনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত সাংবাদিক আজাদ তালুকদারের ভাগিনা (বড় বোনের ছেলে) আরিফ চৌধুরী নিটন।