
চট্টগ্রাম: সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজেই সংরক্ষন করা হচ্ছে গীতিকার,সুরকার,কন্ঠশিল্পী,নাট্যকর্মী ও আবৃত্তিশিল্পী শান্তনু বিশ্বাসের মরদেহ। মৃত্যুর আগে শিল্পীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে বিকাল সাড়ে চারটায় শান্তনু বিশ্বাসের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে। লাশবাহী গাড়ি সেখানে পৌঁছালে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। দীর্ঘদিনের থিয়েটারকর্মী,স্বজন ও বন্ধুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে শিল্পকলার পরিবেশ। শ্রদ্ধা জানায় থিয়েটার সংগঠন,আবৃত্তি সংগঠনসহ নানা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন।
এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ শিল্পী শান্তনু বিশ্বাসের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে দান করা হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বহুমুখী প্রতিভার শিল্পী শান্তনু বিশ্বাস।
উল্লেখ্য,গানকে ভালোবেসেই গানের সাথে পথ চলা শুরু হয় শৈশব থেকেই। ক্ষণজন্মা এই শিল্পীর কথা ও সুরে ২০০৬ সালে এটিএন মিউজিক থেকে সুবীর নন্দী ও ইন্দ্রানী সেনের দ্বৈত অ্যালবাম বের হয়।
২০০৭ সালে ইমপ্রেস অডিও ভিশন থেকে বের হয় ঝিনুক ঝিনুক মন। অরুণিমা ইসলামের সঙ্গে ওই অ্যালবামে তিনি নিজেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
২০০৮ সালে অগ্নিবীনার ব্যানারে বের হয় বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে যৌথ অ্যালবাম বহমান। ২০০৯ সালে চিরকুট শিরোনামে প্রথম একক অ্যালবাম বের হয়। তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের অ্যালবাম ‘পোস্টম্যান’।
গানছাড়াও থিয়েটার চর্চায়ও শান্তনু বিশ্বাসের ছিলো দৃপ্ত পদচারণা। ১৯৭৫ সাল থেকেই যুক্ত ছিলেন থিয়েটার আন্দোলনের সাথে। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনাও দিয়েছেন বেশ কিছু মঞ্চনাটকে। তাঁর লেখা ‘ইনফরমার’ ও ‘ভবঘুরে’ একসময়ের বেশ আলোচিত নাটক।
