বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সঠিক তদন্ত না করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯, ৬:২৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: সঠিক তদন্ত না করে নারী ও শিশু নিযার্তন মামলায় আদালতে মনগড়া প্রতিবেদন দিয়ে এক বৃদ্ধকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মনছফ আলী (৭০)।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বৃদ্ধ মনছফ আলী জানান, ২০১৪ সালে তার ছেলে প্রবাসী মেসকাত উদ্দিনের সাথে একই গ্রামের মো. সোলাইমানের মেয়ে ইয়াছমিন আকতারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নানা কারণে তারা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। ইতিমধ্যে তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জম্ম হয়।

তার ছেলের বউ ইয়াছমিন আকতার তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। দিন দিন তার চলাফেরা আচার-আচরণ বেপরোয়া হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তার স্বামী মেসকাত উদ্দিন দেশে থাকা অবস্থায় সকালে বাজারে গেলে কাউকে কিছু না বলে ইয়ামিন তার বাবা-ভাইকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন বৃদ্ধ মনছফ আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

মনছফ আলী জানান, ২০১৯ সালের ৭ মার্চ তার ছেলে মেসকাত স্ত্রী ইয়াছমিনকে প্রবাস থেকে তালাক প্রদান করেন। যা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। তালাক দেয়ার পর ইয়াছমিন আকতার বাদী হয়ে গত ২৪ মার্চ নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বোয়ালখালী সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

কিন্তু উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন কোন কিছু যাচাই বাচাই না করে টাকার বিনিময়ে আদালতে মামলাটির মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে অভিযোগ করেন মনছফ আলী। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে মিথ্যা মামলায় এ বৃদ্ধ বয়সে কারাবাস করতে হয়। তাই তিনি ঘটনাটির সুষ্ট তদন্ত দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মনছফ আলীর মেয়ে রাশেদা আকতার, সুলতানা রাজিয়া, মেয়ে জামাই মো. পারভেজ। সংবাদ সম্মেলন শেষে উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি স্মরকলিপি প্রদান করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বোয়ালখালী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে তিনি মামলাটি তদন্ত করে যা পেয়েছেন তাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে দিয়েছেন।