
চট্টগ্রাম : গত ১৩ জুন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ড. শিরীণ আক্তার। ১৪ জুন পর্যন্ত মেয়াদ থাকা উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন থেকেই ওইদিনই (১৩ জুন) উপাচার্যের গাড়িটি নিজের দখলে নিয়ে নেন উপ উপাচার্য।
শুধু তা নয়, ১৪ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব বরাবরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মর্মে যে চিঠি উপ উপাচার্য প্রেরণ করেন তাতে তিনি ‘আপনার বিশ্বস্ত ড. শিরীণ আখতার, উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ উল্লেখ করেন।
নিজে নিজে উপাচার্য বনে যাওয়া, উপাচার্যের চেয়ারে বসা এবং উপচার্যের গাড়িটি দখলে নেয়ার বিষয় নিয়ে ‘উপাচার্যের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন শিরীণ আক্তার’ শিরোনামে ওইসময় একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর শিরীণ আক্তার নিজেকে উপাচার্য লেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি উপাচার্যের চেয়ারে বসা থেকে বিরত থাকেন। একই সাথে উপাচার্যের গাড়িটি ফিরিয়ে দিয়ে উপ উপাচার্যের নির্ধারিত গাড়িটি ব্যবহার করছিলেন।
কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, উপাচার্যের জন্য বরাদ্দের গাড়িটি উপ উপাচার্য শিরীণ আক্তার আবারো ব্যবহার শুরু করেন। সোমবার দুপুরে নগরের শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন ‘উপাচার্য’ স্টিকার সম্বলিত গাড়ি চেপে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ জুলাই) চবিতে সিনেট মিটিংয়ের পর থেকেই শিরীণ আক্তার উপ উপাচার্যের গাড়ি রেখে উপচার্যের জন্য বরাদ্দের গাড়িটি ব্যবহার করছেন।
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা কেউ ‘উপাচার্য’ স্টিকারযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে ড. শিরীণ আক্তার একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বিধিমালা ২০১০-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকাকালীন একজন উপাচার্য যেসব সুযোগসুবিধা ভোগ করবেন তার সবগুলোই আমি ভোগ করতে পারবো। আর গাড়ির স্টিকারও আমি উপরের নির্দেশ নিয়ে লাগিয়েছি। উপরের কার নির্দেশ, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতো কিছু তো জানার দরকার নেই বাবা, তোমরা আমার সন্তানের মতো। এসব জেনে, লিখে কী হবে? আমি বিব্রত হই। এসবের কোন দরকার আছে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, ২০১০ সালে তৎকালীন ভিসি ড. আবু ইউসুফ আলম মারা যাওয়ার পর উপ উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে প্রথমে উপচার্যের রুটিন দায়িত্ব এবং এক সপ্তাহের মাথায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়। তাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট, ফাইন্যান্স কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের নির্বাচনী কমিটির সভা আহ্বান এবং ছাত্রছাত্রীদের মূল সনদপত্রে স্বাক্ষর প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয় প্রফেসর আলাউদ্দিনকে।
কিন্তু প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তারের বেলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এধরনের কোনো কথা উল্লেখ নেই। ওই চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতার স্বার্থে ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তার ভাইস চ্যান্সেলরের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।
কিন্তু ড. শিরীণ আক্তার সেই ২০১০ সালে প্রফেসর আলাউদ্দিনকে দেয়া চিঠিকে নিজের জন্য প্রযোজ্য দাবি করে একের পর এক নিয়ম লংঘন করছেন।
সহকারী প্রক্টর নিয়োগ, পদায়নসহ যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। ব্যবহার করছেন উপাচার্যের স্টিকারযুক্ত গাড়ি। রাজধানীতে অবস্থিত চবির রেস্টহাউজে উপাচার্যের কক্ষটিতে নিজেকে তিনি উপাচার্য দাবি করে নেমপ্লেট লাগিয়েছেন- বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।
একুশে/এসআর/এটি
