মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

নেত্রীর মূল্যায়নের অপেক্ষা মোছলেম উদ্দিনের (ভিডিওসহ)

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ


হিমাদ্রী রাহা : জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল ত্যাগী নেতাদেরই মূল্যায়ন করছেন। যদি আল্লাহ্ আমাকে হায়াতে বাঁচিয়ে রাখেন একদিন না একদিন তিনি আমাকে মূল্যায়ন করবেন। আর যদি মূল্যায়িত না হই, আল্লাহ্র তরফ থেকে যদি লেখা না থাকে তাতেও আমার কোনো দুঃখ বা আফসোস নেই।

একুশে পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘দুনিয়াতে এমন অনেক মহৎ লোক আছেন, এমন অনেক গুণী লোক আছেন যারা কখনো এমপি মন্ত্রী হননি। আমি নিজেকে সান্ত্বনা দিই এভাবে, আমি জনগণের জন্য কাজ করছি। জনগণের ব্যাপক অংশ আমাকে স্নেহ করেন, ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন। আমি এতেই তৃপ্ত।’

জনপ্রত্যাশা পূরণের যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম সেটা পূরণ হচ্ছে এটাতেই আমার স্বস্তি। আমি মনে করি, আমি শেখ হাসিনার স্নেহধন্য বলেই দলটিকে এতোদিন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আর নয়তো অনেক সহকর্মীদের মতো আমিও ছিটকে পড়তাম। আমি মান অভিমান করি না। আমি দেশকে ভালোবাসি। আমার দল আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর আমার প্রতি যে সহমর্মিতা আছে, অনেকের যে ভালোবাসা আছে, এটাই আমার জীবনের জন্য বড় সম্পদ।-বলেন মোছলেম উদ্দিন।

রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি রোমন্থনে মোছলেম উদ্দিন বলেন, ‘আমি মুসলিম হাই স্কুলের ছাত্র ছিলাম। স্কুল থেকে বের হয়েই সামনে পড়তো লালদিঘীর মাঠ। সেখানে নানা আন্দোলন সংগ্রামে সভা সমাবেশ লেগেই থাকতো। ওসব দেখে অনুপ্রাণিত হতাম। এছাড়া আমার বাসা ছিলো জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর বাসার পাশেই। উনার বড় ছেলে সাইফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী যিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন তাঁর হাত ধরে ও জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী ও এম এ মান্নানের অনুপ্রেরণায় আমি রাজনীতিতে আসি। ১৯৬৫ সালের পর থেকে আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পুরোদমে রাজনীতি শুরু করি। ছাত্রলীগ দিয়েই আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। আমি আমার ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। ১৯৭৩ সালে সরকারী কমার্স কলেজে আমি ছাত্রলীগের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। ছিলাম মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তৃণমূল থেকেই নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আজকে এই অবস্থানে আমি।’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে মোছলেম উদ্দিন বলেন, যুদ্ধের সময় আমি শেখ ফজলুল হক মনির সাথে জয় বাংলা গ্রুপের নিউক্লিয়াসের সদস্য হই। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও জননেতা মৌলভী সৈয়দও সেখানে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে আমরা ছিলাম নগরীর স্টেশন রোডের রেস্টহাউজ যেটি এখন মোটেল সৈকত যেটি ছিলো জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক কার্যালয় ও শহর ছাত্রলীগের কার্যালয়। সেখান থেকেই আমরা যুদ্ধের নানা কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করি। পরে বর্তমানে স্টেডিয়ামের পাশে নৌবাহিনীর যে স্থাপনা আছে সেখানে আক্রমণ করতে গিয়ে আমরা গ্রেফতার হয়ে যাই। আমাদের অনেকেই আহত-নিহত হয়। আমি, মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ ইউনূস সামরিক ছাউনিতে ছিলাম প্রায় দুই মাস। সবাই জানতো আমাদের মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু অলৌকিকভাবে আমরা বেঁচে যাই ও পালাতে সক্ষম হই। পরবর্তীকালে আমরা ভারতে গিয়ে ট্রেনিং নিই আর দেশে ফিরে যুদ্ধে যোগ দিই। দীর্ঘ নয় মাসের রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধে আমরা স্বাধীন হই। এই স্বাধীনতা আমাদের বড় প্রাপ্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে এখনো বেঁচে আছি এটাই আমারা পাওনা।

যুদ্ধস্মৃতির অবতারণা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের অনুভূতি কখনোই ভোলার নয়। বিজয়ের একদিন আগে বোয়ালখালীতে আমি সোলেমান কমান্ডারের নেতৃত্বে মেজর তানভীরকে কারাবন্দী করি। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় বোয়ালখালীতে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। কমান্ডার সোলেমান ও রাজেন্দ্র বসাক তালুকদারের নেতৃত্বে আমাকে দিয়ে সেই পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মোছলেম উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু না হলে এ দেশ কখনো স্বাধীন হতো না। উনার জন্ম না হলে হয়তো এই বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এদেশ হবে স্বৈরশাসকমুক্ত, এদেশে থাকবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা, থাকবে না ক্ষুধা ও দারিদ্র্য। তবে আমি তৃপ্ত বর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সেসব স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

একুশে/এইচআর/এটি