নব্য জেএমবির ২১ সদস্য এখনো মাঠে: র‍্যাব ডিজি

জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির মাত্র ২১ জন সদস্য এখন মাঠে রয়েছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে তাঁদের সব অস্ত্রই। আজ শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবনে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৮ অক্টোবর র‍্যাবের অভিযানের সময় পাঁচতলা থেকে পড়ে নিহত ব্যক্তিই নব্য জেএমবির প্রধান ছিলেন। তখন সেখান থেকে পাওয়া পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্রের ভিত্তিতে র‍্যাব জানিয়েছিল তাঁর নাম আবদুর রহমান। পরে তদন্তে জানা যায়, তাঁর আসল নাম সারোয়ার জাহান, বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে। আর সাংগঠনিক নাম ‘শায়খ আবু ইব্রাহীম আল হানিফ’।

এই নব্য জেএমবি যেসব হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তার সবগুলোরই দায় স্বীকার করেছে ইরাক-সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বছরের ২১ জুলাই নব্য জেএমবির আমির হিসেবে দায়িত্ব নেন সারোয়ার জাহান। এরপরে ২৬ জুলাই তাঁদের সাংগঠনিক এক প্রতিবেদনে নব্য আমির উল্লেখ করেন, তাঁদের ৩০০ জন সদস্য, ২০টি আধা স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র, নয়টি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কিছু গ্রেনেড রয়েছে। এ প্রতিবেদনের আট মাস পর আরেক প্রতিবেদনে সারোয়ার জাহান উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে তাঁদের ১৫ জন সদস্য নিহত ও ১৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছয়টি একে ২২ (একে টোয়েন্টিটু) রাইফেল ও একটি এম ১৬ (এম সিক্সটিন) রাইফেল র‍্যাব-পুলিশ জব্দ করেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁদের দুজন কেমিস্ট ও একজন ইলেকট্রিশিয়ান রয়েছেন। এ ছাড়া একজন ইলেকট্রিশিয়ান গ্রেপ্তার হয়েছেন। (কর্মকর্তারা বলছেন এসব কেমিস্ট ও ইলেকট্রিশিয়ান বোমা তৈরির কাজ করে থাকেন।) ওই সাংগঠনিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আট মাসে তাদের সদস্যসংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৬৬তে। অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি একে ২২ রাইফেল, চারটি মোটরসাইকেল ও একটি মিনি ট্রাক।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, নিহত হওয়ার দুই দিন আগে সারোয়ার যে সাংগঠনিক প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন তাতে ৫টি একে ২২ রাইফেল, ৩৩ জন সদস্যের কথা বলা হয়। এই ৩৩ জনের মধ্যে ৮ অক্টোবর টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে র‍্যাব ও পুলিশের চারটি পৃথক অভিযানে মোট ১২ জন নিহত হন। ওই সব অভিযানে জঙ্গিদের হিসাবের মধ্যে থাকা পাঁচটি একে ২২ রাইফেলই উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তারা আর কোনো অস্ত্র কিনে না থাকলে ধরে নেওয়া যায় তাদের এখন কোনো অস্ত্র নেই। কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জাম থাকতে পারে। আর ১২ জন নিহত হওয়ার পর এখন গ্রেপ্তার এড়িয়ে রয়েছেন আরও ২১ জন। অচিরেই এঁদের ধরে ফেলা যাবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ২১ জনের মধ্যে তিনজন নীতিনির্ধারনী সদস্য। তাঁদের সাংগঠনিক নাম জানা গেছে ইতিমধ্যেই।