সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

‘উন্নয়ন দুর্যোগের কারণ হলে চট্টগ্রামবাসী ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ তৈরি করবে’

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯, ৭:২৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : জনস্বার্থের অগ্রাধিকার বিবেচনার আলোকেই ‘চট্টগ্রাম উন্নয়নের রোডম্যাপ’ এর দাবি উঠেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন ফোরাম ও চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ থেকে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান প্রবাসী উন্নয়ন সংগঠক ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এবং চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর মতবিনিময় থেকে উন্নয়ন ও সেবা খাতে সরকারের বিশাল কর্মউদ্যোগের টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়নে নাগরিক পর্যবেক্ষণের তাগিদও দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের সমস্যাকে ‘আঞ্চলিক সমস্যা’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। চট্টগ্রামের মাধ্যমেই দেশের মোট রফতানির ৮০ এবং আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ফলে চট্টগ্রামের সংকট সমাধানে জাতির সম্ভাবনার পথই প্রসারিত হয়। চট্টগ্রামের উন্নয়নের মানেই জাতীয় উন্নয়ন। এই উন্নয়ন কোনো আঞ্চলিক নয়, জাতীয় দাবি।

চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক, পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও উদারনৈতিক দৃষ্টির সুযোগে কেউ যদি উন্নয়নকে ভবিষ্যৎ ‘দুর্যোগের কারণ’ হিসেবে তৈরি করেন, তবে চট্টগ্রামবাসী তার জন্য ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ তৈরি করবে। কালের যাত্রায় এর মাশুল গুণতে হবে। তিনি উন্নয়নে সাম্যতা প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম থেকে আকাশপথে বৈশ্বিক যোগাযোগের পথ আরো উন্মুক্ত করা, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের শিল্প সম্ভাবনা অর্জন, কয়েকটি ব্যাংকের হেডকোয়ার্টার চট্টগ্রামে স্থাপন, বছরে অন্তত একটি কেবিনেট মিটিং চট্টগ্রামে আয়োজনসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরেন ।

সাবেক ছাত্রনেতা ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, বন্দর-শহরে জনপ্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা হওয়া জরুরি। উত্তর-দক্ষিণ চট্টগ্রামে মিরসরাই ও আনোয়ারায় স্পেশাল ইকনোমিক জোনে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপনে সক্ষম হলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তিনি আরো বলেন, উন্নয়নে শুধু প্রবৃদ্ধিই নয়, পরিবর্তনও সাধন হয়। দেশে পরিবর্তনের যে ছোঁয়া লেগেছে তা স্হায়ী করতে অপরিণামদর্শী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। উন্নয়নে জনস্বার্থের বিবেচনায় প্রকল্পের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, গণপরিবহনের জন্য মেট্রোরেল, সীবাস সার্ভিস চালুসহ যানজট নিরসনে বন্দরের নিত্যকার ট্রাক লরির জন্য পৃথক টার্মিনাল-ডিপো নির্মাণ, ওয়াসার জন্য শতবর্ষী প্রকল্প গ্রহণ, চসিক-চউক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়, কর্ণফুলীর নিয়মিত ড্রেজিং, চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল ফার্স্ট ট্রেক প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন, বন্দরের প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ এবং বন্দরে গমনাগমনে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গেইট চালু এবং পর্যটন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিনোদনের যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি ।

সভায় এই দুই উন্নয়ন ও নাগরিক সংগঠক ঐক্যমত পোষন করে এও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক গতি প্রবৃদ্ধির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের জলজট ও যানজট নিরসনে সুফল পাবে সারাদেশ। চট্টগ্রাম থেকে অর্জিত দেশের সবচেয়ে বেশি আমদানি শুল্কের একটি অংশ চট্টগ্রামের উন্নয়নে ব্যয় করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। এর সুফলও পুরো দেশবাসীই ভোগ করবে’ বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি