শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

মহিউদ্দিন চৌধুরী কর্মগুণে ‘চট্টলবীর’, আর ওনি নিজে নিজে ‌’কর্মবীর’

একুশে পত্রিকাকে মেয়র আ জ ম নাছির

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০১৯, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে জীবনের একটি পর্যায়ে এসে মহিউদ্দিন চৌধুরী ‘চট্টলবীর’ এ পরিণত হয়েছেন। তিনি নিজে কখনো ‘চট্টলবীর’ দাবি করেননি; জনগণই তাকে ‘চট্টলবীর’ উপাধি দিয়েছেন, সেরকম একটি উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যেটি মহিউদ্দিন ভাই ডিজার্ভ করেন।

চট্টগ্রামের রাজনীতি, চট্টগ্রামের উন্নয়ন-সমন্বয়হীনতা ও উন্নয়নের নামে ব্যক্তিবিশেষের আত্মপ্রচারসহ নানা বিষয়ে একুশে পত্রিকার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন এই মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, আমরা যে যাই বলি না কেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়েছেন। যখন কেউ ছিল না, চারজন নিয়েও মিছিল করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছেন, দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। চট্টগ্রামের স্বার্থে সবসময় তিনি উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। কাজেই তাঁকে ‘চট্টলবীর’ বলাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সিডিএ’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে ইঙ্গিত করে মেয়র বলেন, তিনি নামের আগে ‘কর্মবীর’ জুড়ে দিয়ে হাসির পাত্র হয়েছেন, হাস্যস্পদে পরিণত হয়েছেন। তিনি ছিলেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন সরকারি কর্মকর্তা। ওয়াসার চেয়ারম্যান, এমডি, বন্দরের চেয়ারম্যান, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের এমডি পদমর্যাদায় ওনার (ছালাম) উপরে। তাদের মাধ্যমেও সরকারের অনেক উন্নয়ন বরাদ্দ এসেছে, উন্নয়ন হয়েছে, কই তারা তো কখনো প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজের ছবি লাগাননি, নিজে নিজে ‘কর্মবীর’ বনে যাননি।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, উন্নয়নের নামে উন্নয়ন-সমন্বয়হীনতা তৈরি করে তিনি (ছালাম) বরং চট্টগ্রামের ক্ষতি করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসন ওনার কাজ নয়। এরপরও তিনি আগ বাড়িয়ে জলাবদ্ধতার জন্য মেগা প্রকল্প গৃহীত হওয়ার পর বলেছিলেন একবছরের মধ্যে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা থাকবে না। মুরাদপুর হবে সিঙ্গাপুর। অথচ দুই বছর পার হয়ে গেলেও জলাবদ্ধতা নিরসনের ম্যাগা প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। না পারলে কেন তিনি বড় বড় কথা বললেন, আত্মপ্রচার, সস্তা জনপ্রিয়তার পথে হাঁটলেন- প্রশ্ন মেয়রের।

মেয়র বলেন, সিডিএ’র সর্বশেষ বোর্ড মিটিংয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও যাতে সিডিএ’র কতৃত্ব নিজের হাতে থাকে সেজন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মনিটরিং কমিটি গঠন করে সেই কমিটিগুলোতে নিজেকে প্রধান করে ছালাম সাহেব নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যদিও নতুন চেয়ারম্যান ডলফিন ভাই এসে সেই সব কমিটি বাতিল করে দিয়েছেন। এভাবে ইচ্ছেমতো মনগড়া সব ‘আত্মপ্রচার প্রকল্প’ হাতে নিয়ে ছালাম সাহেব বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, সাবেক এমপি প্রয়াত এম এ ওয়াহাবের পরিবারের নামে বরাদ্দ হওয়া আড়াই কাটা প্লট ছালাম সাহেবের আমলে বাতিল হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র নাছির। তিনি বলেন, জীবনের সর্বস্ব দিয়ে আবদুল ওয়াহাব আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। তরুণ বয়সে তাঁর ১০ টি গাড়ি ছিলো। দলের জন্য সব সহায়সম্পত্তি বিক্রি করে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে তিনি দিয়ে গেছেন।

অথচ আবদুচ ছালাম ওয়াহাব সাহেবের পরিবারের আড়াই কাটা প্লটের বরাদ্দই শুধু বাতিল করেননি; তার পরিবারের সদস্যদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন।

পক্ষান্তরে ওনার (ছালাম) প্রয়োজন মিটবে, কাজে লাগবে- এমন মানুষ দেখে দেখে নামে-বেনামে একেকজনকে একাধিক প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন প্লটের সব শর্ত ও নিয়ম ভঙ্গ করে। বলেন নাছির।

এসময় সিডিএ’র প্রকল্প পরিচালককে কীসের স্বার্থে ১৮ বার বিদেশ ট্যুরে পাঠানো হয়েছে সেই প্রশ্নও তোলেন মেয়র।

অন্য এক প্রশ্নে মেয়র বলেন, আমি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে চাই না, আমার রাজনীতির ভাষা নয় সেটি। একই দল করি, তাই অনেক কিছু বলার থাকলেও বলতে পারি না, হজম করে যাই। কিন্তু ছালাম সাহেব নিজেকে জাহির করার জন্য, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য পদে পদে যেসব অনিয়ম, সমন্বয়হীনতার জন্ম দিয়ে গেছেন তা না বলাটাই বরং অনিয়ম, অবিচার। ৭০ লক্ষ নগরবাসীর এসব জানা উচিত বলে মনে করেন মেয়র।