প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক পাড়ি দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। রেকর্ড বনে যাওয়া বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের শিকারের সংখ্যা এখন ১৫৪টি। কাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ কীর্তি গড়েছেন সাকিব।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম যেন সাকিবের প্রিয় মাঠ। তার টেস্টের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগারটাও এই মাঠেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। কাল ৪৩তম ম্যাচে এসে মাইলস্টোন ছুঁলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। চট্টলা টেস্টের তৃতীয় দিন ইংলিশ ব্যাটসম্যান জো রুটকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সাদা পোশাকের ১৫০ নম্বর উইকেটটি পান সাকিব। পরে বেন ডাকেট, মঈন আলী, বেন স্টোক্স ও আদিল রশিদকে সাজঘরে পাঠান তিনি। সবমিলিয়ে পরিচিত দর্শকদের সামনে টেস্টে ১১১ বার উদযাপনের উপলক্ষ পেয়েছেন সাকিব। বাকি ৪৩টি উইকেট সাকিব শিকার করেছেন বিদেশের মাটিতে।
সাকিবের এ রেকর্ড অনেক দিন অক্ষত থাকবে। পরিসংখ্যান অন্তত এটাই বলছে। উইকেট শিকারের তালিকায় সাকিবের যিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি অনেক আগেই গুডবাই জানিয়েছেন ক্রিকেটকে। তিনি বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। ৩৩ ম্যাচের টেস্ট অধ্যায়ে ১০০ উইকেট শিকার করেছেন রফিক। তার পেছনেই আছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিয়েছিলেন ছয় উইকেট। তাকে সঙ্গ দিয়ে সাকিব শিকার করেছিলেন দুটি। তবে ইংলিশদের ফিরতি ইনিংসে বোলিংয়ে টাইগারদের নেতৃত্বটা দিয়েছেন সাকিব। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬২ রানের মধ্যে ইংল্যান্ডের পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে যে উচ্ছ্বাসটা টাইগার করেছিল এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সাকিব। নিয়েছেন তিন উইকেট। অন্য দুটি মিরাজ ও তাইজুলের।
অথচ টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুর তিন ম্যাচে সাকিব ছিলেন উইকেটশূন্য। কে জানত এই সাকিবই এক দিন টেস্টে বাংলাদেশের বোলারাদের উইকেট শিকারে নেতৃত্ব দেবেন! নিউজিল্যান্ডের ক্রেগ কামিংকে আউট করে শুরু এবং সর্বশেষটা করলেন আদিল রশিদকে সাজঘরে পাঠিয়ে।
কালকের ১৫০ উইকেট ছোঁয়ার ম্যাচে আরো একবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে ১৫ বারের মতো এক ইনিংসে ৫টি উইকেট শিকার করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। পাঁচ উইকেট নেওয়ার স্বাদ প্রথমবার পেয়েছিলেন ২০০৮ সালে চট্টগ্রামের এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই। কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার সেই স্বাদটা পেলেন সাকিব। দাপুটে এই বোলিং নৈপুণ্যে একটা দিকে বিষেন সিং বেদিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। এত দিন যে ১৪ বার করে ৫ উইকেট নিয়ে দুজনই ছিলেন পাশাপাশি! বেদির এই কীর্তি ছিল ৬৭ টেস্টে। অথচ তার চেয়ে ২৪টি কম ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। তাই এ ক্ষেত্রে বেদির নামটা সাকিবের পেছনেই লেখা হচ্ছে। বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার ইনিংসে ৫ উইকেট করে নেওয়া বোলার সাকিব ছাড়া আছেন মাত্র তিনজন। ডেরেক আন্ডারউড (১৭ বার), ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (২০) এবং রঙ্গনা হেরাথ (২৬) আছেন সাকিবের উপরে।
