চবিতে নিয়োগে অনিয়ম : যে সমীকরণ মেলাতে চায় দুদক


চট্টগ্রাম: ‘অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ১৪২ কর্মচারী নিয়োগ হয়েছে এমন অভিযোগের তদন্তে নেমে ১২ কর্মচারীর বক্তব্য নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে তাদের বক্তব্য রেকর্ড করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম।

এর আগে প্রথমবারের মতো সার্কুলার দিয়ে ১৪২ কর্মচারী নিয়োগ দেয় চবি। বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত হিসেবে শুন্যপদে অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রায় ৩৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এগুলো কোন নিয়মের মধ্যে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা তদন্ত করছে দুদক। এর আগে এ সংক্রান্ত সকল তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তলব করে সংস্থাটি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়োগের সকল তথ্য দুদকে সরবরাহ করে।

গত ২৮ জুলাই নতুন নিয়োগ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন কর্মচারীকে দুদকের একটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতর থেকে প্রদান করা হয়। ওই চিঠিতে ৯ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার নামও উল্লেখ রয়েছে। যারা কর্মচারী নিয়োগবোর্ডের সদস্য ছিলেন। তাদের সবাইকে ধাপে ধাপে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা করেছে দুদক। এরই অংশ হিসেবে সোমবার ১২ কর্মচারীর বক্তব্য নিয়েছে সংস্থাটি।

তবে দুদকের এ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ বোর্ড শুধুমাত্র কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করে থাকে। কর্মচারী নিয়োগের অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। অথচ দুদক সম্প্রতি সিন্ডিকেট সদস্যদের এ নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তলব না করে, তলব করেছে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের।

শুধু তাই নয়, যে সকল শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেকল পদের নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের দুদক তলব করেছে। এদের মধ্যে তিন জন ডিন রয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স বিভাগে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় শূন্যপদের বিপরীতে কর্মচারী পদে অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হলেও উক্ত বিভাগের সভাপতি ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে তলব করেনি দুদক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চবিতে অতীতে উপাচার্যের ক্ষমতাবলে কোনো সার্কুলার ও পরীক্ষা ছাড়াই কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হত এডহক ভিত্তিতে। পরবর্তীতে শুন্যপদে সার্কুলার দিয়ে তাদের নিয়োগ স্থায়ী করা হত। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শূন্যপদ পূরণ করা না হলে পদগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বাতিল করা হয়। এর ফলে ওই কর্মচারী নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত শূন্যপদগুলোর জন্য মৌখিক ও পরীক্ষার সময় যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে। পরবর্তীতে তাদের নিয়োগ সিন্ডিকেটে অনুমোদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের আলোকে অতীতে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটে কোনো সদস্য এ নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি। সর্বসম্মতিক্রমেই তা অনুমোদন হয়।

এছাড়া, উপাচার্য ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশের ১৩ এর ৩ এবং ৫ নং ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে সিন্ডিকেটে রিপোর্ট সাপেক্ষে অস্থায়ী ভিত্তিতে কোনো সার্কুলার ছাড়াই সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, সহকারী রেজিস্ট্রার, সেকশন অফিসার ও কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারেন। অতীতে এ নিয়মের ভিত্তিতে সহকারী রেজিস্ট্রার ও সেকশন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোনো সার্কুলার-পরীক্ষা ছাড়াই। অথচ দুদক এই বিষয়েই প্রশ্ন তুলেছে বলে জানিয়েছেন সোমবার দুদকে বক্তব্য দেয়া চবির একাধিক কর্মচারী।

এদিকে কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগের তদন্তের নানাদিক জানতে সোমবার দুপুরে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে উপস্থিত হন সাংবাদিকরা। তবে তদন্তাধীন বিষয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজী হননি দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম।