শিক্ষার্থীদের কোলাহলে কল্লোলিত চবি ক্যাম্পাস

চবি প্রতিনিধি : দশদিন বন্ধে নিষ্প্রাণ চবি ক্যাম্পাস আজ (বুধবার) থেকে খুলছে। শুরু হচ্ছে ক্লাস ও পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষাও। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ও ডেমু ট্রেনও চলাচল করবে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস এম আকবর হোছাইন।

এদিকে ১০ দিনের ছুটিতে হলগুলো ছিলো শিক্ষার্থীশূণ্য। ছিলো কেবল বৃক্ষরাজি, পাহাড়, কালো পাথরের পিচঢালা পথ আর প্রকৃতির নিরবতা।তবে ঈদের ছুটি শেষে পরিচিতজনের পদচারণায় মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস।

ঘুম ভেঙ্গেছে তিক্ত নিরবতার। ক্যাম্পাস যেমন শিক্ষার্থীদের আগমনে মুখরিত শিক্ষার্থীরাও চেনা ক্যাম্পাসে এসে বেশ প্রফুল্ল। তাদের কথায় প্রকাশিত হয় সেই অনুভুতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাফসির আকতার ‘একুশে পত্রিকাকে’ বলেন, পরিবারের সাথে ঈদ করতে পেরেছি বলে ভালো লাগছে। অনেকেরই নানান সমস্যার কারণে পরিবারের সাথে ঈদ করার সৌভাগ্য হয় না। তবে যতদিন ক্যাম্পাসে আসিনি বেশ মিচ করেছি। বিশেষত- বন্ধুদের সাথে কোলাহলে ভরা সময়গুলো, ঝুপড়িতে বসে স্বল্প টাকার নাস্তা করা, কয়েকজন একসাথে হলেই কপি হাউজ বানানো, বঙ্গবন্ধু উদ্যানে কারো না কারো জন্মদিন উদযাপন, হতাশার মোড়ের নিস্তব্ধ নির্মল বাতাস, শাটলের সেই মনমুগ্ধকর গানের সুর, সেন্ট্রাল ফিল্ডে ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক খেলাধুলা, স্যার ক্লাস নেওয়ার সময় ব্যাক বেঞ্চার হয়ে বিভিন্ন উক্তি ছুড়ে মারা।

তিনি বলেন, দিনশেষে জিরো পয়েন্টে বসে আড্ডা। আজ থেকে আবার সেই সময়গুলো পিরে পাবো। তবে খুব চিন্তে হচ্ছে এই ভেবে যে ছুটির সময় ক্যাম্পাসে না এসে এতসব কিছু মিচ করেছি না জানি যখন ছেড়ে যাবো তখন কেমন লাগবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের (১৭-১৮) শিক্ষাবর্ষের ফরহাদ ওয়েসি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বাড়িতে ঈদের আনন্দ করা সত্বেও ক্যাম্পাসের কথা মাথা থেকে ফেলতে পারছিলাম না। যখন ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের সিটে বসে হেলান দিয়েছি মনের মধ্যে এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করলো। বন্ধু-বান্ধব বড় ভাই, জুনিয়রদের কথা ভেবে বেশ ভালো লাগলো।

তিনি বলেন, যতদিন বাড়িতে ছিলাম সোহারওয়ার্দী হলটা বিষণ মিচ করেছি। তাছাড়া কলা ঝুপড়ির চা, সন্ধ্যায় শহীদ মিনারের গান। বাড়ি থেকে ফিরে এখন মায়ের স্নেহ আর তার হাতে রান্না করা খাবার খুব মিচ করছি। এ ক্যাম্পাস প্রায় সবকিছুই দিতে পারে কেবল পূরণ হয় না এই দুটি চাহিদা।

এদিকে টিকেট জটিলতা কিংবা অন্য সমস্যায় বাড়িতে ঈদ করার সৌভাগ্য হয়নি গুটি কয়েক শিক্ষার্থীর। জনশূন্য ক্যাম্পাসে বিরক্তিকর ঈদ আনন্দ হলেও সিনিয়র, জুনিয়র কিংবা সহপাঠীদের ফিরে আসায় গুছেছে সেই বিরক্তি।

একুশে/আইএস/এসসি