
চট্টগ্রাম: আইন লঙ্ঘন করে আটক আসামিকে নিয়মিত আদালতে হাজির না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা সহকারী কমিশনার ভূমির (এসি-ল্যান্ড) কাছে হস্তান্তর করে আসায় চট্টগ্রাম জেলার ওসিদের সতর্ক করেছেন আদালত।
চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমীর দেওয়া এই আদেশটি বুধবার জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় আসে বলে জানান পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) সুব্রত ব্যানার্জী।
আদেশের অনুলিপি পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, রেলওয়ে পুলিশ সুপার, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, পিবিআই, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলার সকল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রেলওয়েসহ ১৭ থানার ওসি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসিকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও স্থানীয় পত্রিকার সংবাদ ও অন্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে অত্র কার্যালয়ের গোচরীভূত হয়েছে যে চট্টগ্রাম জেলার ওসিরা তাদের দ্বারা আটক আসামিকে নিয়মিত আদালতে হাজির না করে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) অথবা সহকারী কমিশনার ভূমির (এসি-ল্যান্ড) কাছে হস্তান্তর করছেন। উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ লঙ্ঘন করে আসামিদের আইন বর্হিভূতভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিচ্ছেন, যা দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ৬ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এ আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার সময় কোনো অপরাধ, যা কেবল তার সামনে সংঘটিত বা উদঘাটিত হয়ে থাকলে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই উক্ত অপরাধ আমলে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে এ আইনে নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগ করতে পারবেন।’
এ ধরনের একটি ঘটনায় ইউএনও এবং ওসির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং আদেশ দিয়েছিল, যা সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকলের জন্য প্রযোজ্য। এ অবস্থায় মোবাইল কোর্ট আইন এবং হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পুলিশ ধৃত আসামিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করলে বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ওসিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সুপ্রিম কোর্টকে অবহিত করা হবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।
