হলো না ইতিহাস গড়ার স্বপ্নপূরণ

sabbir১৯ মিনিট। ২১ বল। তাতেই শেষ একটা স্বপ্ন। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টেস্টে ঐতিহাসিক এক জয় পাওয়ার স্বপ্ন।
৩৩ রান দরকার ছিল বাংলাদেশ দলের। হাতে ছিল সারা দিন আর ২ উইকেট। শুনলে মনে হতে পারে কাজটা কত সহজ! বাস্তবতা হলো কাজটা সহজ ছিল আসলে ইংল্যান্ডের জন্য। পঞ্চম দিনের উইকেটে ৩৩ রানের মধ্যে লোয়ার অর্ডারের দুটো উইকেট তুলে নেওয়া কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই কঠিন কাজ নয়। ইংল্যান্ড সেটা করল বাংলাদেশের আগের দিনের স্কোরের সঙ্গে আর ১০ রান যোগ হতেই। রোমাঞ্চকর চট্টগ্রাম টেস্টের সমাপ্তি হলো ইংল্যান্ডের ২২ রানের জয়ে।

দিনের দ্বিতীয় ওভারে বেন স্টোকসকে মারা তাইজুল ইসলামের বাউন্ডারিতে মনে হচ্ছিল দিনটা বুঝি বাংলাদেশেরই হতে যাচ্ছে। কিন্তু স্টোকসের পরের ওভারে ফিরে গেলেন সেই তাইজুল। প্রথমে আম্পায়ার ধর্মসেনা স্টোকসের এলবির আবেদনে সাড়া দেননি। কিন্তু তিনি রিভিউ নিয়েই বাজিমাত করেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেল বল প্যাডে না লাগলে লাগত অফ স্টাম্পে। এক বল পর শেষ ব্যাটসম্যান শফিউল ইসলামের পরিণতিও একই। তিনি অবশ্য খড়কুটো ধরে বাঁচার আশায় রিভিউ নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সাব্বির রহমানের ম্যাচ জেতানোর লড়াই ওখানেই শেষ। আগের দিনের ৫৯–এর সঙ্গে আর ৫ রান যোগ করে অপরাজিত থেকেছেন তিনি।

বাংলাদেশের জয় দেখার আসায় সকাল সকালই কিছু দর্শক হাজির হয়েছিলেন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। কিন্তু স্বপ্নসাধ অপূর্ণই থেকে গেছে। যে সকালটা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারত আনন্দের ঢেউ, সেটাই উপহার দিল না–পাওয়ার বেদনা। ১৩ বছর আগে মুলতানে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই টেস্টটির মতোই এই বেদনা রক্তক্ষয়ীই।