মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহৎ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি এটিঅ্যান্ডটির কাছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় কেব্ল ও স্যাটেলাইট টিভি নেটওয়ার্কের মালিক প্রতিষ্ঠান টাইম ওয়ার্নারের বিক্রি হওয়ার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্ন তুলেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থী ডেমোক্র্যাট দলের হিলারি ক্লিনটন, রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আইন প্রণেতারা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প রীতিমতো ঘোষণা করেই বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে টাইম ওয়ার্নারের বেচাকেনাসংক্রান্ত চুক্তির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেবেন।
অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে তাঁর একজন মুখপাত্র বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে চুক্তি হওয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে বেশ কিছু তথ্যও প্রকাশ হওয়া উচিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বা সিদ্ধান্তই শেষ কথা নয়। সে কাজটি করার এখতিয়ার রয়েছে শুধু বিচার বিভাগের হাতে। বিচার বিভাগই শুধু এ উদ্যোগ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন বা বন্ধ করতে কিংবা কোনো শর্ত জুড়ে দিতে পারে।
মার্কিন সিনেটের প্রতিযোগিতা-বিষয়ক উপকমিটি টাইম ওয়ার্নারের বিক্রি হওয়া নিয়ে আগামী নভেম্বরে শুনানির আয়োজন করবে। তবে এটিঅ্যান্ডটির প্রধান নির্বাহী র্যান্ডাল স্টিফেনসন অবশ্য আশা করছেন, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তাঁদের চুক্তি করার অনুমতি দেবে।
এটিঅ্যান্ডটি ৮ হাজার ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশের প্রায় ৬ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা) টাইম ওয়ার্নারকে কিনে নিচ্ছে। টাইম ওয়ার্নার আন্তর্জাতিক কেব্ল ও স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল সিএনএন (কেব্ল নিউজ নেটওয়ার্ক), এইচবিও ও কার্টুন নেটওয়ার্কের মূল প্রতিষ্ঠান।
সিনেটের ওই উপকমিটির সভাপতি রিপাবলিকান দলের সিনেটর মাইক লি বলেন, এই চুক্তি হলে তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠবে। সেটাই উপকমিটি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে দেখবে।
এটিঅ্যান্ডটি যদি টাইম ওয়ার্নারকে কিনে নেয়, তাহলে এটাই হবে চলতি বছরে বিশ্বে সবচেয়ে বড় অধিগ্রহণের ঘটনা। বর্তমানে এটিঅ্যান্ডটির রয়েছে ১৩ কোটি সাবস্ক্রাইবার বা গ্রাহক; আর টাইম ওয়ার্নারের রয়েছে আড়াই কোটি গ্রাহক, যাঁরা অর্থের বিনিময়ে টেলিযোগাযোগ ও টিভি চ্যানেল সুবিধা পেয়ে থাকেন।
এদিকে টাইম ওয়ার্নার এটিঅ্যান্ডটি অধিগ্রহণ করে নিচ্ছে, এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পরের দিনই গতকাল সোমবার জানা গেল যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি কোম্পানি বিক্রি হতে চলেছে। জেনওয়ার্থ ফাইন্যান্সিয়াল ইনকরপোরেশন নামের বড় এ বিমা প্রতিষ্ঠানটি কিনে নিচ্ছে চীনা কোম্পানি ওশানওয়াইড হোল্ডিং গ্রুপ কোম্পানি।
এ ক্ষেত্রে বিক্রি হওয়া প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ জেনওয়ার্থ ফাইন্যান্সিয়ালের বিক্রয়মূল্য হবে ২৭০ কোটি ডলার (বাংলাদেশের প্রায় ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা)।
উভয় প্রতিষ্ঠান গত রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে কেনাবেচার বিষয়টি প্রকাশ করেছে। এতে জানানো হয়, জেনওয়ার্থের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫ দশমিক ৪৩ ডলার ধরে কেনাবেচার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার পুঁজিবাজারে জেনওয়ার্থের শেয়ারের যে দাম দাঁড়িয়েছে, এর চেয়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি মূল্য দেবে চীনা কোম্পানিটি। এ ছাড়া ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেনওয়ার্থের ঋণ পরিশোধে ওশানওয়াইড ১১২ কোটি ডলার দেবে।
চীনের অর্থনীতিতে চলমান শ্লথগতি ও দেশটির মুদ্রা ইউয়ানের বিনিময় হার কমার কারণে দেশটির ব্যবসায়ীরা এখন ব্যাপক হারে বিদেশে বিনিয়োগ করছেন। চলতি ২০১৬ সালে এ পর্যন্ত তাঁরা বিদেশি সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণে রেকর্ড ১৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা গত বছরের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি।
বেইজিংভিত্তিক ওশানওয়াইড হোল্ডিং গ্রুপ কোম্পানির মালিক চীনা ব্যবসায়ী লু ঝিকিয়াং। গবেষণা প্রতিষ্ঠান হুরুনের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি চীনের নবম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের।
অন্যদিকে ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জেনওয়ার্থ ফাইন্যান্সিয়াল ইনকরপোরেশন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির জীবনবিমার গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এ ছাড়া বন্ধকি বিমা কার্যক্রমও পরিচালনা করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। বিবিসি ও রয়টার্স অবলম্বনে।
