চবিতে নিশ্চিহ্ন হলো ‘কলঙ্কের’ বগিভিত্তিক রাজনীতি

cu-railচট্টগ্রামঃ অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিশ্চিহ্ন হলো ‘কলঙ্কের’ বগিভিত্তিক রাজনীতি। মুছে গেলো নানা রঙের মিশ্রণে বড় বড় অক্ষরে লেখা শাটল ট্রেনের বগি গুলোর নাম। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনের উপস্থিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন থেকে মুছে দেয়া হয় বগি গুলোর নাম। ফলে অবসান হলো দীর্ঘ তিন যুগের বগি ভিত্তিক রাজনীতি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে শাটল ট্রেন চালু হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনার মূলকেন্দ্র হয়ে উঠে শাটলের বগিগুলো। সংস্কৃতির চর্চা এবং মৌলবাদমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে তাদের বগিভিত্তিক রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি, মারামারি এবং গ্রুপিং এর কারণে বগিভিত্তিক রাজনীতিতে লাগে ‘কলঙ্কের’ দাগ। গত এক বছরেই নিজেদের মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টির ও বেশি সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিভিন্ন বগির রাজনীতি করা নেতা-কর্মীরা, আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। শুধু খুনোখুনি ও রক্তপাতেই শেষ নয়, নানা কারণে মৌলবাদ বিরুধী আন্দোলনের ‘আতুড়ঘর’ বগিভিত্তিক রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দাবী উঠে গ্রুপিং সৃষ্টিকারী বগি ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের।

গত বছরের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আলমগীর টিপুকে সভাপতি এবং ফজলে রাব্বী সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দুজনেই বগিভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেন। শাখা ছাত্রলীগের এ দুই শীর্ষ নেতার এমন ঘোষণায় পর গুঞ্জন উঠে চবিতে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক রাজনীতি।

এদিকে এ বছরের ২২ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনে বিভিন্ন নামে সকল ধরণের বগি ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষনা করলে বগি ভিত্তিক রাজনীতির যুগ ‘কাগজে কলমে’ শেষ হয়ে যায়। সর্বশেষ গত সোমবার শাখা ছাত্রলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির সুষ্ঠ চর্চা অব্যাহত রাখতে উপ-গ্রুপ, বগি ভিত্তিক চিকা, টি-শার্ট, লোগো প্রভৃতি নিষিদ্ধকরণ সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন থেকে সকল নাম মুছে ফেলার আদেশ দেয়া হয়। আর আজ দুপুরে সে আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বগি ভিত্তিক রাজনীতির ‘কফিনে টুকা হয় শেষ পেরেক’।

বগিভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু বলেন, ‘বগি ভিত্তিক রাজনীতিতে বিভিন্ন উপগ্রুপ সৃষ্টি হয়, ফলে নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সংগঠন। তাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অভিবাবক সাইফুর রহমান সোহাগ ভাই এবং এস এম জাকির হোসেন ভাইয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে চবিতে বগিভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং বগি গুলোর নাম মুছে দেয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, ‘ছাত্রলীগ একটি আদর্শিক সংগঠন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমরা মিলেমিশে রাজনীতি করবো। আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের একটায় নাম থাকবে আর তা হলো, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।’