শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

আসামে ১৪৪ ধারা

প্রকাশিতঃ শনিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৯, ১:০৯ অপরাহ্ণ

আসাম : আসামের গুয়াহাটিসহ রাজ্যের উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৫১ কোম্পানি সিএপিএফও মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার আসামের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা কুলধর শইকিয়া জানিয়েছেন, রাজ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৫১ কোম্পানি সিএপিএফ পাঠিয়েছে কেন্দ্র। আগে থেকেই রাজ্যে ১৬৭ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করা রয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের চূড়ান্ত ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) বা নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ হবে আজ। এ লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগদ করার প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছে সুপ্রিম কোর্ট। চূড়ান্ত তালিকাটি আজই প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের দাবি আসামে তাদের কোন নাগরিক নেই।

রাজ্যজুড়ে থাকা প্রায় ২৫০০ এনআরসি সেবা কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ২শ কেন্দ্রকে উত্তেজনাপ্রবণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজ্যের মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আসাম পুলিশ।

ভুয়া খবর কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। রাজ্যের মানুষ শান্তি বজায় রাখবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।

খসড়া তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট তিন কোটি ২৯ লাখ বাসিন্দা তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু প্রায় ৪০ লাখ বাঙালি এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। যাদের অধিকাংশই মুসলিম।

বিবিসি জানিয়েছে, ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় ৪১ লাখেরও বেশি মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে কতজনের নাম আবার স্থান পাচ্ছে তাও দেখার বিষয়।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন তালিকার বাইরে রয়েছেন। ফলে তাঁদের ভবিষ্য়ত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। তালিকায় রয়েছে ৩ কোটি মানুষের নাম, যারা বৈধ নাগরিক বলে চিহ্নিত হয়েছেন।

তালিকায় নাম না থাকলেও অবশ্য এখনই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে না। ১ হাজার ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল খোলা হয়েছে। যেখানে গিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে তথ্য পেশ করতে পারবেন।

ট্রাইব্যুনালে মামলায় হেরে গেলে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তালিকায় নাম আছে কিনা জানা যাবে এনআরসি সেবাকেন্দ্রে গিয়ে। জেলাশাসকের দপ্তরেও দেখা যাবে এনআরসি তালিকা। এনআরসির ওয়েবসাইটে গিয়ে এআরএন নম্বর টাইপ করেও দেখা যাবে নাম আছে কিনা। আবেনদনকারীদের জন্য বিশেষ টোল ফ্রি নম্বরেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে (আসামের জন্য-১৫০১৭, আসামের বাইরের জন্য ১৮০০৩৪৫৩৭৬২) ।

একুশে/এসসি