শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

এনআরসির তালিকা থেকে হিন্দু বাঙালিরাই বাদ পড়ার আশঙ্কা

প্রকাশিতঃ শনিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৯, ১:৩৭ অপরাহ্ণ

আসাম : নথি-সংকটের কারণে আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা থেকে হিন্দু বাঙালিরাই বেশি বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাঙালি হিন্দু নেতারা। শেষ মুহূর্তে শরণার্থীর প্রমাণপত্র, নাগরিক সনদ, রিলিফ ইনজিবিলিটি সার্টিফিকেটের মতো নথি আমলে নেওয়া হয়নি বলে বাঙালি হিন্দু নেতাদের।

সূত্রের বরাত দিয়ে গুয়াহাটি থেকে প্রকাশিত স্থানীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম যুগশঙ্খ খবরে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব প্রমাণে ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গে লিগ্যাসি যারা ব্যবহার করেছেন তাদের আবেদন গ্রাহ্য করা হয়নি। বিশেষ করে ত্রিপুরার ভোটার তালিকার প্রতিলিপি, জমির নথিপত্র ইত্যাদি বাতিলের খাতায় ফেলা হয়েছে। অস্পষ্ট স্বাক্ষর, ক্রমিক নম্বরে গণ্ডগোল বা ছাপা অস্পষ্ট হলেও সেগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

সারা আসাম বাঙালি যুব-ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক নেতা চিত্ত পাল বলেন, আমাদের অনুমান বলছেন চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ছে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে ১৭-১৮ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ পড়বে। তার দাবি, নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই হিন্দু বাঙালিদের কাছে।

এদিকে, চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশের দিনটিকে ঘিরে উদ্বেগে রয়েছেন খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া রাজ্যের প্রায় ৪১ লাখ মানুষ। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল দশটায় অনলাইনে এই তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। অবশ্য সম্প্রতি ভারত সরকার আশ্বস্ত করেছে ঘোষণা করেছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেও এখনই কাউকে বিদেশি বলে ঘোষণা করা হবে না। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিলের সুযোগ পাবেন তারা।

এনআরসি থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাঙালিদের বাদ পড়ায় কয়েকজন বিজেপি নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে আসামের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র সরকার নতুন আইনের কথা বিবেচনা করছে। যার ফলে যারা তালিকায় স্থান পাওয়া বিদেশিদের বাদ দেওয়া যায় এবং বাদ পড়া সত্যিকার নাগরিকদের অন্তর্ভূক্ত করা যায়।

আসাম বিজেপির হিন্দু বাঙালি নেতা ও বিধায়ক শিলাদিত্য দেব বলেছেন, ‘যে হিন্দুরা ১৯৭১-র ১৪ মার্চের আগে ভারতে এসেছেন তারা আপনা থেকেই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাদের প্রতি এনআরসি কর্মকর্তাদের কোনো সহানুভূতি নেই, তারা পড়ে আছেন শুধু ৭১-র পরে আসা মুসলিমদের নিয়ে। ফলে গোটা ব্যাপারটা যেন একটা ‘ডকুমেন্টেশন এক্সারসাইজে’ পরিণত হয়েছে – নাগরিক শনাক্তকরণ আর নেই। মানে যে যেভাবে পারে একটা কাগজ বা দলিল ম্যানেজ করেই নাগরিক হয়ে যাচ্ছে – অথচ যারা পঞ্চাশ-ষাট বছর ধরে আসামে আছেন তারা কাগজ দেখাতে না-পেরে তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন!

একুশে/ডেস্ক/এসসি