শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

ভূজপুর ট্র্যাজেডি: আবারও মূল আসামি বাদ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ৯:৫১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভূজপুরে আওয়ামী লীগের মিছিলে তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলার অন্যতম আসামি ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদের আদালতে চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি হয়।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সওগাতুল আনোয়ার খান একুশে পত্রিকাকে বলেন, অধিকতর তদন্তের পর আদালতে জমা দেয়া চার্জশিটে মূল আসামিদের মধ্যে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনকে বাদ দেয়া হয়েছে। আজ ধার্য্য তারিখে আমরা আদালতে শুনানি করেছি। আদালত আমাদের বক্তব্য আমলে নিয়ে ২৭ অক্টোবর পুনরায় শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আশা করছি চার্জশিটে মূল আসামিদের নাম অন্তর্ভূক্ত হবে, আর আমরা ন্যায়বিচার পাবো।

এর আগে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ভূজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হরতালবিরোধী মিছিলে হামলার ঘটনায় হামলার শিকার জিয়াউল হক জিয়া ও জামাল হোসেন শওকত বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন।

উভয় মামলায় অভিযুক্ত হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে বাদ দিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভুজপুর থানার এসআই মো. কবির হোসেন।

এ প্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে নারাজি দেয়। আদালত মামলা দুটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক মো. শাহাজাহান পুনরায় তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

মামলার বাদী জিয়াউল হক জিয়া একুশে পত্রিকাকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে মূল আসামিদের মধ্যে ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনের নাম বাদ দেয়ায় আমরা আদালতে নারাজি দিই। আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে প্রেরণ করলে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুনরায় মূল আসামিকে বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। অথচ তদন্ত চলাকালীন সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান আমাদের সাথে কথা পর্যন্ত বলেননি। আমাদের কারও কোনো মতামতও জানতে চাননি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মামলার আরেক বাদী জামাল পাশা শওকতও একই অভিযোগ করেছেন একুশে পত্রিকার কাছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির পরিদর্শক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান একুশে পত্রিকাকে বলেন, যোগাযোগ করা হয়নি বলে বাদী যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়। আদালত যে সব পয়েন্টের উপর অধিকতর তদন্ত করতে বলেছে সব তদন্ত করে দেখেছি। বাদীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে নিজেদের মনমতো আসামির নাম উল্লেখ করেছে। রাস্তার পাগলকেও আসামি করা হয়েছে। এক লোকের নাম আটবারও আসামির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত করে আমি যা পেয়েছি তাই উপস্থাপন করেছি। এখানে প্রভাবিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।