সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

আমাদের প্রথম পরিচয় বাঙালি : কলকাতায় তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

কলকাতা : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা বাঙালিরা মনে করি আমাদের প্রথম পরিচয় বাঙালি। দ্বিতীয় পরিচয় কে মুসলিম, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যখন আমরা পাকিস্তান রাষ্ট্রব্যবস্থায় দেখতে পেলাম, আমাদের ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতির উপর আঘাত এসেছে, আমাদের বাংলাভাষাকে আরবি হরফে লেখার চেষ্টা করা হচ্ছে, বাংলাভাষাকে ইসলামীকরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, ররবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, তখন আমরা বুঝতে পেরেছি এই রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে থাকা সম্ভবপর নয়, সেই কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

শনিবার কলকাতা প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কলকাতার সাংবাদিকরা ও প্রেসক্লাব’ নামে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

কলকাতা প্রেসক্লাবের ৭৫ বছর পদার্পণ উপলক্ষে বইটি প্রকাশ করে প্রেসক্লাব। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকের হাতে নৌকা প্রতীক, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুটি তুলে দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের আয়োজনের জন্য কলকাতা প্রেসক্লাবকে ধন্যবাদ জানাই। এই বইটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য দলিল হয়ে থাকবে। কলকাতা প্রেসক্লাব ইতিহাসের সাক্ষী ও অংশ। আমার জানা ছিল না ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগরের শপথের দিন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা এই প্রেসক্লাব থেকে রাত ৪টার সময় গাড়ি করে রওনা দিয়েছিলেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ জনযুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। কিছু পাকিস্তানপন্থী ছাড়া সবাই এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তান বলেছিল এই বাংলাদেশ কতদিন নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে দেখব। কিন্তু আজ পাকিস্তানের চেয়ে সমস্ত সূচকে আমরা এগিয়ে। এমনকি অনেক সূচকে আমরা আজ ভারত থেকেও এগিয়ে।

‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল বিশ্বে সর্বোচ্চ, যা এখন ৮ দশমিক ৩। আর তা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে।’বলেন তথ্যমন্ত্রী।

এর আগে প্রেসক্লাবের ২৩ জুলাই প্লাটিনাম জয়ন্তীর দিনে বইটি প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ওইদিন তিনি বলেছিলেন, দুই দেশ, বিশেষ করে দুই বাংলা একে অপরের সহায়ক। তারই দলিল এই পুস্তকটি।

বইটির সংকলন ও সম্পদনা করেছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিষ সুর। তিনি বলেন, কলকাতা প্রেসক্লাব মনে করেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কলকাতার যেসব সাংবাদিক সক্রিয়ভাবে খবর সংগ্রহের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন, তাদের সেই লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা দুই মলাটের মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হোক। কারণ দুই দেশের মৈত্রী চিরকাল অটুট থাক, এটাই আমাদের একমাত্র কাম্য।

‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কলকাতার সাংবাদিকরা ও প্রেসক্লাব’ বইটি গ্রন্থাকারে তৈরির সহযোগিতায় নিজের উপার্জন থেকে এক লাখ রুপি দিয়েছিলেন কলকাতার বাংলাদেশ উপ দুতাবাসের প্রথম সচিব, প্রেস শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. মোফাকখারুল ইকবাল।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উপ দুতাবাস প্রধান তৌফিক হাসান, প্রেস সচিব মোফাকখারুল ইকবাল, কলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস শুর, সম্পাদক কিংশুক প্রামাণিক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কভার করা প্রবীণ সাংবাদিক ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত, উপেন তরফদার, দীলিপ চক্রবর্তী, মানস ঘোষ, তরুণ গাঙ্গুলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বইটির ডিজিটাল প্রকাশে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।