
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ‘হালদা ভ্যালি’র প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি দখল, বনজসম্পদ ধ্বংস ও বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায়।
রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় এসব ক্ষোভ উঠে আসে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ‘আলোঝলমলে হালদা ভ্যালির আড়ালে অন্ধকারের গল্প’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা; এতে আলোঝলমলে হালদা ভ্যালির সফলতা, চাকচিক্যের আড়ালে অন্ধকার লুকিয়ে থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
এদিকে রোববার জেলা প্রশাসন আয়োজিত উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নুরেআলম মিনা, জেলার আওতাধীন উপজেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যানবৃন্দ ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির সভা সূত্রে জানা গেছে, সভার একপর্যায়ে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বখতিয়ার নূর সিদ্দিকী হালদা ভ্যালির সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস, জবরদখলের বিষয়টি তুলে ধরেন। বনকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, চারা নষ্ট ও বনকর্মীদের হত্যার হুমকির বিষয়টি উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
এর পরপরই সভায় ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান এইচএম আবু তৈয়ব বলেন, হালদা ভ্যালি নিয়ে ফটিকছড়িতে প্রচুর কথাবার্তা হচ্ছে। পুলিশ কিন্তু বনবিভাগকে সাপোর্ট দেয় না। পুলিশ হালদা ভ্যালির পক্ষে থাকে।
এরপর চট্টগ্রামের এসপি নুরেআলম মিনা বলেন, বনবিভাগ যেসব বিষয় সভায় উপস্থাপন করেছে, সেসব আমার নলেজে আছে। এসব বিষয় আমি আগে থেকে জানি। তবে ফটিকছড়ির ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) যদি হালদা ভ্যালির সীমানা নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা যাবে।
এসপির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সভায় অভিযোগ ওঠে, হালদা ভ্যালির ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গত ১০ বছর ধরে দেড় ডজন মামলা হয়েছে। তারপরও তাকে থামানো যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও অবগত।
এরপর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বিভাগীয় বনকর্মকর্তা বখতিয়ারের উদ্দেশ্যে বলেন, ফটিকছড়িতে স্থানীয় বনকর্মকর্তাদের বলুন এটা নিয়ে ইউএনও-এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ রাখতে, যাতে দ্রুত সীমানা নির্ধারণটা হয়ে যায়। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আমি ইউএনওকে বলবো।
সভায় হালদা ভ্যালি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বখতিয়ার নূর সিদ্দিকী একুশে পত্রিকাকে বলেন, হালদা ভ্যালির দখল করা জায়গার ব্যাপারে ডিসি, এসপি সাহেবসহ প্রত্যেকেই একমত হয়েছেন, মাপজোক করে সীমানা নির্ধারণ হয়ে যাওয়া উচিত।
আগের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর হালদা ভ্যালির সীমানা নিয়ে মাপজোক হবে বলেও জানান তিনি।
