
চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানের সংগ্রহ জমা করেছে। সর্বোচ্চ ৬২ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ।
ইনিংসের ৩য় ওভারে লিটন কুমার দাস জিম্বাবুয়ে বোলার অ্যাইন্সলে লোভুকে প্রথম তিন বলে; ৬, ৪, ৬ হাঁকান। এই ওভারে লিটন-শান্ত’র ব্যাটে আসে ২১ রান। অভিষেকে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। ৯ বলে ১ চারে ১১ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি। দলীয় ৪৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লেতে ঝড় তুলেন ডানহাতি ওপেনার লিটন। বোলারের ওপর চড়াও হতে গিয়ে আউটও হন। ক্রিস এমপোফোর বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে অসাধারণ এক ক্যাচে ফিরেন লিটন। বাউন্ডারি সীমানায় দারুণ ক্যাচটি নেন মাদজিবা। ২২ বলে ২ ছয় ও ৪ চারে ৩৮ রান করেন লিটন। লিটনের বিদায়ে ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী হন মুশফিকুর রহিম। তিনে ব্যাটিং করতে নামা সাকিব শুরুর বলেই চালিয়েছিলেন। বল সাকিবের ব্যাটে লেগে জমা পড়ে ব্রেন্ডন টেইলরের গ্লাভসে। বোলার কাইল জার্ভিস শব্দ শুনেছিলেন, তবে ব্রেন্ডন টেইলর কোনরকম আগ্রহ না দেখালে আম্পায়ারও সাকিবকে আউট না দিয়ে খেলা চালিয়ে নেন। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় নিশ্চিত আউট ছিলেন সাকিব।
প্রাণ পেয়েও দ্রুত ফিরে যান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। রায়ান বার্লের অতি সাধারণ বলটি বাংলাদেশ অধিনায়ক ¯্রফে তুলে দিলেন লং অফের ফিল্ডারের হাতে। এ যেন ক্যাচ ধরার অনুশীলন করালেন ফিল্ডার শন উইলিয়ামসকে। সাকিবকে হারিয়ে ৭.২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৫/৩। এরপর উইকেটে এসে প্রথম বলেই ছয় হাঁকান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ধাক্কা সামলে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ চেষ্টা চালান দলকে এগিয়ে নিতে। বাংলাদেশকে উপহার দেন ইনিংসে প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি।
৩৯ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করে দুই অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের জুটির রান। বড় সংগ্রহের পথে যাচ্ছিল দল। একপর্যায়ে টিনোটেন্ডা মুতুম্বোজির বলে বাজে শট খেলতে যেয়ে ব্রেন্ডন টেইলরের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন মুশফিকুর রহিম। ভেঙে যায় ৭৮ রানের জুটি। ফেরার আগে ১ ছয়, ৩ চারে ২৬ বল খেলে করেন ৩২ রান করেন মুশফিক। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ১৬.৩ ওভারে ১৪৩/৪।
ক্রিজে নেমেই মারার চেষ্টায় ছিলেন আফিফ হোসেন। তবে টাইমিং পাচ্ছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ক্রিস এমপোফুর স্লোয়ারে ফিরে গেলেন কট বিহাইন্ড হয়ে, ধরা পড়েন ব্রেন্ডন টেইলরের গ্লাভসে। অন্যপ্রান্তে ৩৭ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। এরপর জার্ভিসের ফুলটস বলে টাইমিং করতে পারেননি তিনি। ৪১ বলে পাঁচ ছক্কা ও ১ চারে ৬২ রান করে ফিরেন অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে চারটি ছক্কা ও একটি চার। ফুলটসে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মোসাদ্দেক হোসেনও। সীমানায় রেজিস চাকাবভার হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৩ বলে এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান করেন ২ রান। পরপর দুই বলে উইকেট পান কাইল জার্ভিস। জিম্বাবুয়ের হয়ে ৩২ রান খরচে ৩ উইকেট নিয়েছেন কাইল জার্ভিস।
