চোরাই টাইপ মেশিনসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হুইপ সামশুল?


চট্টগ্রাম: তিনটি চোরাই টাইপ মেশিনসহ জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন- একুশে পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম চৌধুরীর এমন দাবির সত্যতা খুঁজতে অনুসন্ধানে নামে একুশে পত্রিকা টিম।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৮০ সালের ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা পুলিশের অভিযানে তিনটি চোরাই টাইপ মেশিনসহ সামশুল হক নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে একই বছরের ২২ আগস্ট চট্টগ্রামের ইংরেজি দৈনিক ‘দি ডেইলি লাইফ’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

‘চোরাই টাইপ মেশিন জব্দ, একজন গ্রেপ্তার’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ডবলমুরিং থানা পুলিশ গত বুধবার চোরাই তিনটি পুরাতন টাইপ মেশিন উদ্ধার করেছে। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

১৯৮০ সালের ২২ আগস্ট ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি লাইফের উক্ত সংবাদে আরো উল্লেখ করা হয়, বুধবার বিকেলে (২০ আগস্ট) শেখ মুজিব রোডের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি টাইপ মেশিন মেরামতের দোকানে তিনটি চোরাই টাইপ মেশিন বিক্রি করতে যান রিয়াজউদ্দিন বাজারের সামশুল হক।

‘গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একজন সাব ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে ডবলমুরিং থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পুলিশ টাইপ মেশিনগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

অবশ্য একই ঘটনায় চট্টগ্রামের প্রাচীন দৈনিক আজাদী সংবাদ প্রকাশ করলেও সেখানে কাউকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ নেই। টাইপ মেশিন উদ্ধারের ঘটনায় ১৯৮০ সালের ২৩ আগস্ট এক কলামে সংবাদ প্রকাশ করে পত্রিকাটি। ‘৩টি টাইপ মেশিন উদ্ধার’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিপেয়ারিং এন্ড সেলস সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সেখান থেকে ৩টি অপহৃত টাইপ মেশিন উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে থানা থেকে জানানো হয়।’

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত একুশে পত্রিকার পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এর আগে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ডবলমুরিং থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় তিনটি টাইপ মেশিন চুরি করে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন সামশুল হক চৌধুরী। এই ঘটনায় ১৭ দিন হাজতবাসও করেন সামশুল। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে নিউমার্কেট মোড়ে আওয়ামী লীগের মিটিং পণ্ড করার জন্য বোমা হামলা চালান তিনি। আমাদের মোশাররফ ভাই আহত হয়েছিলেন। বোমা হামলার পরে আমাদের নেতা ইসহাক মিয়া কিন্তু মাইকে বলেছিলেন, তুমি কে হামলাকারী আমি তোমাকে ভালো করে চিনেছি। তোমার নামের প্রথম বর্ণ ‘শ’, তোমার ঘাড় বেটে।’

‘যখন তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চাচ্ছেন, স্টেডিয়ামে গরু জবাই করলেন। বাবু ভাই আর আমি বহু চেষ্টা করে ওকে যোগ দিতে দিইনি। একমাত্র স্বাক্ষী এখন আলাউদ্দিন নাছিম, প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন এপিএস। তার সাথে যোগাযোগ করে আওয়ামী লীগের ৫০ বছর পূর্তিতে তার যোগদানের চেষ্টা আমরা রুখে দিই। পরবর্তীতে ঢাকার কিছু নীতিভ্রষ্ট ক্রীড়াসংগঠক টাকার বিনিময়ে তাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করার সুযোগ দেয়। সৈয়দ সেলিম নবীর (বর্তমানে ভারতে বসবাসকারী) কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে শেখ রাসেল ক্রীড়া সংসদে দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ পান। একটু আগেও সেলিম নবী ইন্ডিয়া থেকে আমাকে ফোন করে বলল, তার টাকাটা আজ পর্যন্ত সামশুল হক দেননি। তাকে বলা হয়েছিল পরিচালক করা হবে। কদিন আগে পরিচালক পদ ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে সেলিম নবীর নাম নেই। তিনি এমপি বা হুইপ যদি না হতেন তাহলে একবাক্যে বলতাম, তার মতো একজন বিশ্বপ্রতারক; বাংলাদেশে না, বিশ্বে দুষ্কর।’ বলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ এ নেতা।