
চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ইয়ং ইকোনমিক সোসাইটি (ইয়েস) এর উদ্যোগে বাজেট অলিম্পিয়াড-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেছে চবিসহ চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজের প্রায় ৬’শতাধিক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বাজেট বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক প্রাপ্ত অর্থনীতিবীদ এবং ইউজিসি অধ্যাপক ড.মইনুল ইসলাম।
অলিম্পিয়াডে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড.মইনুল ইসলাম বলেন, বাজেটের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ইয়াং ইকোনোমিক সোসাইটি (ইয়েস) এর এমন একটি আয়োজন খুবই প্রশংশনীয়। আমাদের মাথাপিছু গড় জিডিপি ৬১ ডলার থেকে ১৯০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অর্থনীতিতে আমরা বিশ্বের উচ্চ বৈষম্যের দেশগুলোর মধ্যে একটি। তাই আমরা অনেক ক্ষেত্রে সফল হলেও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি কতটুকু দিতে পেরেছি এবং এক্ষেত্রে কতটুকু সফল হয়েছি সেটাই মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশ গড়ার উদ্যোগ হাতে নিয়েছিল। তখন ১০ বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু আমাদের সেখানে ৪৩ বছর লেগেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, যদিও বলা হচ্ছে রাস্ট্রের মালিক জনগণ। কিন্তু রাষ্ট্রের রাজত্ব চলে গেছে কয়েক হাজার কোটিপতির হাতে। এই বৈষম্য দূরীকরণে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।
রাজনীতি এবং অর্থনীতি কী দর্শন অনুসরণ করছে সেটা বাজেটের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায়। আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার এখন এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু সেই হিসেবে আমাদের বাজেট বাড়েনি। কল্যাণ রাস্ট্রগুলোতে যেখানে জিডিপির ৩৫ শতাংশ বাজেটের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। সেখানে আমাদের বাজেটের পরিমাণ মাত্র ১৮.২ শতাংশ। তাছাড়া বাজেট কোন খাতে কেমন বরাদ্দ হচ্ছে সেটাই বাজেটের চরিত্র নির্ধারণ করে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের বর্তমান বাজেটকে খুবি উচ্চ বিলাসি বলা হলেও আমরা দেখেছি স্বাস্থ্য খাতে মাত্র ৪.৯৯ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা এই খাতে পৃথিবীর সবচেয়ে কম বরাদ্দের মধ্যে একটি। শিক্ষাখাতে আমরা বাজেটের ১১.৫ শতাংশ তথা জিডিপির মাত্র ২.১ শতাংশ ব্যয় করছি। যেখানে ইউনেস্কো থেকে কমপক্ষে ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের কথা বলেছে। যার ফলে বৈষম্যমূলক শিক্ষা আজও আমরা বদলাতে পারিনি। ধনী গরিবের শিক্ষার বৈষম্য থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তবে আশার দিক হলো, আমরা ১৯৭১ সনে যখন ৭ কোটি মানুষ ছিলাম, তখন আমাদের ধান উৎপাদন ছিলো ১ কোটি ১০ লক্ষ টন। বর্তমানে আমরা ১৭ কোটি মানুষ। আমাদের উৎপাদন এখন ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টন। তাছাড়া রপ্তাণিতে ১৯৮১ সনে আমাদের যেখানে আয় ছিলো ৭৫ কোটি ডলার। সেটা এখন ৪২০০ কোটি ডলার। প্রায় ৫০ গুনেরও বেশি। এছাড়াও প্রতিবছর প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাচ্ছি আমরা। যা আমাদের শহর এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
মুল বক্তা হিসেবে বাজেট বিষয়ক প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের সভাপতি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড.আমিরুল ইসলাম।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বর্ণিক বৈশ্য এবং জাকিয়া আজিজ এর সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইয়েসের সভাপতি মিশুক রায়, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, সাবেক সভাপতি রাশেদ রাজীব,সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল খসরু, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সংগঠনের উপদেষ্টা নঈম উদ্দিন হাছান আওরঙ্গজেব। অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। সংগঠনের পরিচিতি প্রেজেন্টেশনে ছিলেন ইয়েসের সহ- সভাপতি মো: দিদারুল ইসলাম। এসময় বাজেট অলিম্পিয়াডের রিজিওনাল রাউন্ডে বিজয়ীদের পুরষ্কৃত ও সনদ প্রদান করা হয়।
একুশে/আইএস/এসসি
