জয়ী টেস্টের শেষ সেশনে অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন মুশফিক

mushfiqurরোববার ঢাকায় যখন খেলা চলে, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তখন সিঙ্গাপুরে। সেখান থেকেই ম্যাচের খোঁজ রাখছিলেন টেলিফোনে। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি দাঁড়িয়ে যাওয়ার খবর শুনে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টকে তখন কড়া হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি পাপনের পরামর্শে টিম ম্যানেজমেন্ট খেলোয়াড়দের খুব করে কড়া কথা শুনিয়ে দেয়। চা বরতিতে গিয়ে ক্রিকেটারদের আর চা খাওয়া হয় না। শেষ সেশনে প্রধান কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে আরো একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মাশফিকুর রহিমের হাত থেকে নেতৃত্ব সাময়িক কেড়ে নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সহঅধিনায়ক তামিম ইকবালকে। আর তামিমের পরামর্শক ছিলেন সাকিব আল হাসান।শেষ পর্যন্ত কোচের ওই পরিকল্পনা কাজে দেয়। বাংলাদেশ দল সফল হয়।

শেষ সেশনে ব্যাটিং করতে নেমেই মেহেদী হাসান মিরাজের আঘাতের শিকার হয় ইংল্যান্ড। একে একে উইকেট হারাতে থাকে ইংল্যান্ড। একটা সময় সাকিব নিজেও জ্বলে উঠেন। তিনি পর পর তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করলে ম্যাচে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশের। ১৬৪ রানে ইংলিশদের বেঁধে ফেলে ইতিহাস রচনা করেন স্বাগতিকরা। ১০৮ রানের ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পায় বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক এ জয় দেখা হয়নি বিসিবি সভাপতির। কিন্তু সেদিন রাতে ঢাকায় পৌঁছেই ফুলের তোড়া হাতে হাজির হয়েছিলেন খেলোয়াড়দের আবাস হোটেল রেডিসনে। বিজয়ী ক্রিকেটারদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাদের। এরপর দেন বোনাসের ঘোষণা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ জয়টা পাপন সোমবার বর্ণনা করলেন এভাবে, ‘বাংলাদেশের এই জয়টা অবিশ্বাস্য। এতো সহজে তিন দিনের মধ্যেই ইংল্যান্ডকে হারাতে পারব, এটা তো কল্পনাই করিনি। ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকেই ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। জিততে জিততে হেরে গেছে সিরিজের প্রথম এবং শেষ ম্যাচে। দ্বিতীয় ম্যাচটা তারা জিতেছে। ওয়ানডের ছন্দটা টেস্টেও নিয়ে যেতে পেরেছেন সাকিবরা। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে শেষ পর্যন্ত ২২ রানে হেরেছে। যেটা এখনও পোড়ায় বিসিবি সভাপতিকে।

নিজের ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে প্রথম ওয়ানডেটা হারার কোনো কারণই ছিল না। ৬ উইকেট হাতে, ৩১ রান দরকার। পাঁচের নিচে প্রয়োজনীয় রানরেট। দুজন সেট ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করছিল। ওই রান করা কোনো ব্যাপারই ছিলো না। কিন্তু আমরা ম্যাচটা হেরেছি। কাজেই হারটা অত্যন্ত দু:খজনক। এ ধরনের হার কিন্তু আমরা অনেক দিন পরে দেখলাম।’

চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডে হার সম্পর্কে তার মত হলো, ‘চট্টগ্রামের মাঠে ২৭৭ আমাদের স্পিনারের বিপক্ষে করা সহজ কথা নয়। এটা অনেক বড় স্কোর। আমরা নিশ্চিত ছিলাম ম্যাচটা আমরা জিতব, ওটাও আমরা জিততে পারিনি। প্রথম টেস্ট হাতের কাছ থেকে বেরিয়ে গেছে। সুতরাং এই ম্যাচটা যদি না জিততাম তাহলে আসলেই কিন্তু বাংলাদেশের উন্নতিটা বিশ্বের কাছে ওইভাবে ধরা পড়ত না।’

আক্ষেপ করে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘এখনও আমার আক্ষেপ ওয়ানডে সিরিজটা জিততে পারিনি। আমার ব্যক্তিগত মতামত, এটা না জেতার কোনো কারণই ছিল না। বিশেষ করে আমাদের যে খেলোয়াড় আছে তাতে বাংলাদেশে অন্য কোনো দল এসে জিতে যাওয়া সহজ ব্যাপার না।’