সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

’লন্ডনের’ নির্দেশেই বহিষ্কার হন মনি!

প্রকাশিতঃ সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯, ৮:০২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আওয়ামী লীগের মেয়রের পক্ষে মনোয়ারা বেগম মনির স্ববিরোধী বক্তব্য ও অবস্থান নেয়াকে যারপরনাই ক্ষুব্ধ করেছে লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। এজন্য তারেক রহমানই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে টেলিফোনে নির্দেশ দিয়েছেন তাৎক্ষণিকভাবে মনোয়ারা বেগম মনিকে বহিস্কারের। তাই গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে মনিকে বহিস্কার করতে বাধ্য হন মহিলা দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সোমবার বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটির দাবি, মনোয়ারা বেগম মনি যার পক্ষে অবস্থান নিয়ে কট্টর আওয়ামী লীগ নেতার মতো কথা বলেছেন সেই তিনি (নাছির) তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়র নন। সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলের লোকজন ব্যবহার করে তাকে জোরপূর্বক মেয়র বানিয়েছেন। অথচ নগর মহিলা দলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে মনোয়ারা বেগম মনি প্রকাশ্যে বললেন, আ জ ম নাছির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মেযর, তাকে পুনর্বার মেয়র করতে না পারলে তা হবে চরম ব্যর্থতা কিংবা নাছির মনোনয়ন না পেলে মনি আর নির্বাচন করবেন না-এই জাতীয় কথাবার্তা দলের সকল নেতাকর্মীকে আহত ও ক্ষুব্ধ করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানকে।

এদিকে, বহিস্কৃত নেত্রী মনি নিজেই একুশে পত্রিকার সঙ্গে ভিডিও সাক্ষাৎকারে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। মেয়রকে নিয়ে বলতে গিয়ে অতিরঞ্জন কিংবা আবেগের বশবর্তী হয়েছেন স্বীকার করে মনি একুশে পত্রিকাকে সেই সাক্ষাৎকারে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আমাকে ডেকে বকাঝকা করতে পারতেন, সংশোধন করে দিতে পারতেন, কিন্তু তা না করে তারা আমাকে বহিস্কারের পথে ঠেলে দিলেন, লন্ডনকে ভুল বোঝালেন। কথাগুলো বলার সময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন মনি। বলেন, বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হলেও তিনি বিএনপি ছাড়বেন না। আমৃত্যু বিএনপির একজন সমর্থক হিসেবে রয়ে যাবেন।

মনোয়ারা বেগম মনির এই অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন সোমবার সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকাকে বলেন, মনি আপা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা এক ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে, খুব দ্রুততার সেটি পৌঁছে গেছে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পর্যন্ত। তার বহিস্কারের ব্যাপারে যা হয়েছে উপরের নির্দেশে, উপরের ইচ্ছায়। কাজেই এখানে আমাদের করার কিছুই ছিল না।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর একুশে পত্রিকাকে বলেন, তিনি (মনি) যে রাজনীতি করেন তা নিয়ন্ত্রণ করে মহিলা দল। নগর কমিটির কাছে মহিলা দলের দেখভালের দায়িত্ব নেই। নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহিলা দল। এখন তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কেন দেয়া হয়নি সে বিষয়ে মহিলা দলই ভালো বলতে পারবে।

একুশে/এসআর/এটি