শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

এপিএস-কাণ্ডে ভূমিমন্ত্রীর উষ্মা প্রকাশ!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) রিদুয়ানুল হক চৌধুরী সায়েমের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উষ্মা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

বুধবার মন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনে আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলার বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে বৈঠকে সায়েমকে এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। বৈঠকটিতে উপস্থিত একাধিক সূত্র একুশে পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর আনোয়ারার রাজনীতিতে এপিএস-বন্দনা শিরোনামে একুশে পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদে এপিএস সায়েমের পছন্দসই উপজেলা যুবলীগের কমিটি গঠন, স্থানীয় প্রেসক্লাবের মনগড়া কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ ছাড়াও গত ৪ অক্টোবর নবগঠিত যুবলীগ কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হয়েও সবচেয়ে বড় ও উঁচু চেয়ারে বসে রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি করার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লী সফর শেষে দেশে ফেরার পর ভূমিমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের সঙ্গে বুধবার রাতে গুলশানের বাসভবনে বৈঠক করেন। বৈঠকে এ সংক্রান্ত একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনোয়ারার রাজনীতি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কাঁদা ছোড়াছুড়ি, পরস্পর বিষোদগারের বিষয়গুলো স্থান পায়।

বৈঠক সূত্র জানায়, শুরুতেই মন্ত্রী এপিএস সায়েমের বড় চেয়ারপ্রীতিতে উষ্মা প্রকাশ করেন। সায়েমের কাছে জানতে চান কেন তিনি সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কিংবা প্রধান অতিথিকে ডিঙ্গিয়ে বড় চেয়ারে বসলেন। জবাবে সায়েম বলেন, আমি বড় চেয়ারটিতে ৫ মিনিটের জন্য বসেছিলাম। মন্ত্রী পাল্টা জানতে চান, ৫ সেকেন্ডের জন্যও কেন বসবে। এসময় সায়েমকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আগেও তোমাকে সতর্ক করেছি, আজকে আবারও সতর্ক করলাম, ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়।

এসময় মন্ত্রী অতীতে চট্টগ্রাম চেম্বারের একটি অনুষ্ঠানে নিজে সভাপতির চেয়ারে বসার পর যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল তা নিয়ে গল্প করেন। মন্ত্রী বলেন, আমি তখন চেম্বারের সহ সভাপতি। একটি চলমান অনুষ্ঠানে হঠাৎ আমার ফোন বেজে ওঠে। কথা বলার জন্য সভাপতির খালি চেয়ারে এক মিনিটের জন্য বসেছিলাম। আর সেটিই ক্যামেরাবন্দী করে পরদিন পত্রিকায় চাপা হলো আমি চেম্বার দখল করে ফেলেছি।

এসময় মন্ত্রী ফেসবুকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি চিরতরে বন্ধের নির্দেশ দেন। বলেন, আজকের পর থেকে যেই ফেসবুকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করবে, চরিত্রহনন করবে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে।

মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী অভিভাবকসুলভ ভূমিকা রেখেছেন। তার কাছে অন্যায়, অনিয়ম ও নোংরামির কোনো স্থান নেই এবং তিনি একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ, গতকালের বৈঠকে তাঁর নির্দেশনা ও কঠোর ভূমিকা তা আবারও প্রমাণ করলো।