চট্টগ্রাম: ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি করেন। আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকায় জঙ্গিবাদবিরোধী মহাসমাবেশ ডেকেছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত। ওই সমাবেশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আয়োজন করা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ওই সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদও দেওয়া হয়।’
বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে চক্রান্ত থেকে ওই হামলা হয়। যারা আমাদের সমাবেশে এসেছিল তারা ছিল নিরস্ত্র। অথচ হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ থেকে কেউ হামলায় অংশ নেয়নি। একদিকে মানুষ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিল, অন্যদিকে একদল লোক হিন্দুদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে। সেদিন একই এলাকায় আরেকটি সমাবেশ হয়েছিল ‘খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’ ব্যানারে। ওই সমাবেশের আয়োজনকারীরা কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ‘হেফাজতি ঘরানার সংগঠন’।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনার জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উত্তেজনা বিরাজ করছিল জেনেও প্রশাসনের লোকজন হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি। তাদের উচিৎ ছিল সেটা করা। তারা সেটা না করে সমাবেশে অংশ নেয়। তারা ওখানে (হামলাস্থলে) ছিল না কেন?’
মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার বলেন, ‘নাসিরনগর উপজেলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ইমাম মোখলেছুর রহমান মুফতি হামলার ইন্ধনদাতা। আহলে সুন্নাতের ইতিহাসে উগ্রতার কোনো নজির এবং আদর্শে উগ্রতার কোনো প্রশ্রয় নেই। আমরা এ বছরের ২০ এপ্রিল শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করেছি। কেউ বলতে পারবে না কখনো আহলে সুন্নাত উগ্রতা প্রদর্শন করেছে কোথাও।’
প্রসঙ্গত গত ২৮ অক্টোবর এক হিন্দু যুবকের ফেসবুকে ইসলাম অবমাননাকর পোস্ট পাওয়ার অভিযোগ তুলে নাসিরনগরে আহলে সুন্নাতের সমাবেশের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মাঠে মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাত। আগামী ১২ নভেম্বর এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাত সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার।
তিনি বলেন, এবারের মহাসমাবেশের উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী চলমান মুসলিম গণহত্যা বন্ধের দাবিকে জোরদার করা এবং ইসলামের শান্তির বাণী সর্বস্তরের জনতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়মিত কর্মসূচি ঘোষণা করা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন, মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ, মাওলানা এম এ মান্নান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রমুখ।
