বেপরোয়া লিমন, প্রশ্ন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে

screenshot_5চট্টগ্রাম : ‘ফুটপাতের হকারের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতে না পেরে লিমনের অনুসারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার করেছে। পুলিশের সামনে সব ঘটনা হলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।’

গত মঙ্গলবার আগ্রাবাদে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া আর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলেই দক্ষিণ আগ্রাবাদের কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল এই জবাব দিলেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিও জানিয়েছেন, অস্ত্র ব্যবহারকারীরা বহিষ্কৃত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সিআরবি জোড়াখুনের আসামি সাইফুল আলম লিমনের অনুসারী।

এদিকে আগ্রাবাদে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে ডবলমুরিং থানায়। এর মধ্যে ঘটনায় আহত জামশেদের মায়ের দায়ের করা মামলায় এবিএম মাসুম ও লিমনসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আহত জনৈক আকতারের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে ইব্রাহিম হোসেনকে প্রধান করে ৯ জন এবং আহত মাসুমের বোন এডভোকেট শাহেনা ছিদ্দিকা বাদী হয়ে দাতলা সুমনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারীদের নাগাল পাচ্ছে না পুলিশ। এমনকি সংঘর্ষের মূল হোতা লিমন এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

লিমন এখনো গ্রেফতার না হওয়া প্রসঙ্গে ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার হাসান ইকবাল বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলার আসামি লিমন। তাকে ধরার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার সব আসামিকে আমরা গ্রেফতার করতে পারবো। আসামি গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।’

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার হাসান ইকবাল বলেন, ‘বুধবার রাতে আগ্রাবাদের সিজিএস কলোনী থেকে জালাল নামের একজনকে চারটি রাম দা ও লাটিসোটাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত দুইটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জালাল। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে নগরজুড়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন বহিষ্কৃত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন। ২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবি জোড়াখুনের মামলায় গ্রেফতার হন লিমন। জামিনে বের হওয়ার পর ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর ফের অস্ত্রসহ লিমন গ্রেফতার হয়।

এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন লিমন। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর আন্দরকিল্লায় মেয়রের বাসভবনের সামনে পর পর দু’দিন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানেও প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করে লিমনের অনুসারীরা।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনিতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার করে লিমনের অনুসারীরাই। অস্ত্রধারীদের ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার সময় কিরিচ হাতে লালশার্ট পরা যুবক হচ্ছেন দাতাল সুমন। আর মাথায় হেলমেট ও পেছনে স্কুলব্যাগ নেয়া অস্ত্রধারী হচ্ছেন উত্তর আগ্রাবাদ এলাকার ফয়সল আহমেদ রাজ। দুইজনই লিমনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার হাসান ইকবাল বলেন, ‘গণপূর্ত ভবনের টেন্ডারের ঘটনা নিয়ে লিমনের অনুসারী ও প্রতিপক্ষের মধ্যে মঙ্গলবার সংঘর্ষ হয়। যারা অস্ত্র ব্যবহার করেছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২১ নং আগ্রাবাদ হকার্স সমিতি নামে ফুটপাতে থাকা দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়। ওই সমিতির নিয়ন্ত্রণ ছিল লিমনের হাতে। কাউন্সিলর সোহেলের অনুসারীরা তা দখল নেয়ার চেষ্টা করলে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া সিজিএস কলোনিতে ফুটপাত ও টেম্পু স্ট্যান্ডকে ঘিরে চাঁদাবাজিও এই বিরোধের অন্যতম কারণ। এছাড়া সিজিএস কলোনির সামনে বেশ কয়েকটি ফলের দোকান ও সিজিএস কলোনির পরিত্যক্ত ঘর দখল করে ভাড়া বাণিজ্যের বিষয়টিও রয়েছে। এর বাইরেও গণপূর্ত ভবনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই নিয়ে প্রায় তিন মাসে আগেও দু পক্ষের মধ্যে একবার সংর্ঘষ হয়েছিল। ওই সময় লিমন গ্রুপের কয়েকজন আহত হন।

লিমন ও সোহেল দুইজনই সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত তিন মামলার মধ্যে একটিতে লিমনের নাম আসলেও কাউন্সিলর সোহেলের নাম মামলায় আসেনি। এ প্রসঙ্গে ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার হাসান ইকবাল বলেন, ‘কাউন্সিলর সোহেলের নামে কেউ অভিযোগ করেনি, তাই মামলায় নাম আসেনি। তবে কাউন্সিলর সোহেলের অনুসারীদেরকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।’

প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহারকারী নিজের অনুসারীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে বুধবার সাইফুল আলম লিমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার অনেক কর্মী আছে। কেউ যদি দোষ করে তার দায়িত্ব আমি নেবো কেন।’