চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ


চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রচলিত বগিভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের নামে চিকামারা, টি-শার্ট, প্ল্যাকার্ড, স্লোগান সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. আহসান হাবীব।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় বগি নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ। এরপরও বিভিন্ন গ্রুপের চিকা, স্লোগান, টি-শার্ট ও প্ল্যাকার্ড বহন করে থাকে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুমতিক্রমে এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হলো।

তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগ একটাই সংগঠন। কেউ যদি প্রকৃত ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে থাকে তাহলে তাকে অবশ্যই ছাত্রলীগের ব্যানারেই রাজনীতি করতে হবে। এতে আলাদা গ্রুপের সুযোগ নেই। এই আদেশ কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এই সিদ্ধান্তের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি। আমরা নিজেরাও বগিভিত্তিক রাজনীতি সমর্থন করি না। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে যে সমস্ত চিকামারা রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ জুলাই বগিভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর শাটল ট্রেন থেকে বগিভিত্তিক নাম ও স্লোগান মুছে দেওয়া হয়। কমে আসে সিট দখলকেন্দ্রিক সাধারণ শিক্ষার্থী ও উপ-গ্রুপসমূহের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। শাটল ট্রেনকেন্দ্রিক ঝামেলার কিছুটা সমাধান হলেও ক্যাম্পাসে বগিভিত্তিক গ্রুপের আধিপত্য থেকে যায়। যার রেশ ধরে আধিপত্য বিস্তার করতে কিছুদিন পরপরই সংঘর্ষে জড়ায় উপ-গ্রুপগুলো। দীর্ঘ ১৯ মাস কমিটিবিহীন থাকার পর চলতি বছরের ১৪ জুলাই নব-কমিটির ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এক বছরের জন্য মনোনীত করা হয়। এরপর থেকে হলভিত্তিক রাজনীতি সক্রিয় করার তোড়জোড় চালায় সংগঠনটি। অস্ত্র ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি বুদ্ধিভিত্তিক ও শিক্ষাবান্ধব রাজনীতির ঘোষণা দেয় নতুন কমিটি। কিন্তু একই সঙ্গে গ্রুপভিত্তিক রাজনীতিও চলতে থাকে। যা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, ক্যান্টিন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ ক্যাম্পাসের সর্বত্র বিভিন্ন গ্রুপের নাম ও স্লোগান লেখার প্রবণতা দেখা যায়।