‘অপরিপূর্ণ শিশু জন্মের সংখ্যা বেড়েই চলেছে’


চট্টগ্রাম: দেশে প্রতিবছর অপরিপূর্ণ শিশু জন্মের সংখ্যা বেড়েই চলেছে বলে জানিয়েছেন ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন।

শনিবার নগরীর পাহাড়তলীস্থ ৩৭৫ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক এবং বহুমূখী বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র ‘ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিঃ’ (আইএইচএল) এর সম্মেলন কক্ষে অপরিপূর্ণ শিশু (প্রিম্যাচুউর বেবী), ডেলিভারী, জন্ম এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, সাধারণত গর্ভধারণের ৩৭ সপ্তাহ আগে কোনো শিশু জন্ম নিলে তাকে অপরিপূর্ণ শিশু বলা হয়। আর নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্ম নিলে মৃত সন্তান প্রসবের আশঙ্কাও থাকে অনেক বেশি। দেশে প্রতিবছর প্রিম্যাচুউর বেবি জন্মের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রিম্যাচুউর বেবি জন্মের ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। শিশুমৃত্যুর ৪৫ শতাংশই ঘটছে শুধু প্রিম্যাচুউর বেবির ক্ষেত্রে। প্রিম্যাচুউর শিশুদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকে তারাও পরে নানা অসুখে ভোগে। পুষ্টির সঙ্গে স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে নিরাপদ মাতৃত্বের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে সার্বক্ষণিক উন্নতমানের ইমার্জেন্সি সেবা, ল্যাব, রেডিওলোজি, ব্ল্যাড ব্যাংক ইত্যাদি রয়েছে। এর সাথে অন্যান্য ওপিডি সার্ভিস, মেডিসিন সার্জারী, গাইনি নিউরোলজি, অর্থপেডিক চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসকদের দক্ষতা, সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের জন্য ক্লিনিক্যাল প্রোগ্রাম ও একাডেমিক প্রোগ্রাম হয়ে থাকে।

এ হাসপাতালে এক ছাদের নিচে সব ধরণের চিকিৎসাসেবা রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, এখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ (ইনফেকশান কন্ট্রোল), রোগীদের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা এই ৩টি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এছাড়া কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস্ ইত্যাদি সম্বলিত ১৪টি মডিউলার অপারেশান থিয়েটার, ৬টি নার্স স্টেশন ও ৬২টি কনস্যালটেন্ট রুম সম্বলিত বহির্বিভাগ এবং আধুনিক গুণগত মানসম্পন্ন ৫৮টি ক্রিটিকাল কেয়ার বেড; নবজাতকদের জন্য ৪৪ শয্যাবিশিষ্ট নিওনেটাল ইউনিট এবং ৮টি পেডিয়াট্রিক আই সি ইউ স্থাপন করা হয়েছে।

বিত্তমান, মধ্যবিত্ত ও অস্বচ্ছল থেকে শুরু করে সব ধরণের রোগীরা চিকিৎসা সেবার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, একজন রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করা পর্যন্ত হসপিটালিটি বিভাগের মাধ্যমে যাবতীয় সেবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরীর লক্ষ্যে চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের জন্য প্রশিক্ষণসহ আবাসিক ব্যবস্থা, দূরবর্তী রোগীর দর্শনার্থীদের থাকার সুবিধার জন্য আবাসন সুযোগ রয়েছে।

সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন, প্রফেসর ডা. তাহের খান , প্রফেসর ডা. বাসনা মূহুরী, প্রফেসর ডা.দিদারুল আলম, প্রফেসর ডা. শাহেনা আক্তার, ডা. ফয়সল আহমদ প্রমূখ। ডা. নিশাত ফাতেমার সঞ্চলনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. উম্মুল নুসরাত জাহান, ডা. আব্দুর রাজ্জাক, প্রায় দুই যুগের কাছাকাছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশু বিভাগে কর্মরত হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. সাইফুল ইসলাম, ডা. শিরীন ফাতেমা। ১১৭ জন গাইনী এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে বলা হয়, দেশের প্রতিটি জেলা তথা নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রিম্যাচুউর শিশু হাসপাতালে আসছে। যা পুষ্টির অভাব। পুষ্টিশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক হল- অতি দামি মানেই অতি পুষ্টিযুক্ত খাদ্য নয়। গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত স্বল্পমূল্যের দানাশস্য থেকেই পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায়। দানাশস্য, শাকসবজি, দুধ, ডিম, চিংড়ি এবং ছোট মাছ থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া যায়।

সেমিনারে বলা হয়, বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক। এই দূষণ গর্ভের শিশুর জন্যও বিপদ ডেকে আনতে পারে।বায়ুদূষণ অপরিপূর্ণ শিশু (প্রিম্যাচুউর বেবি) জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। বায়ুবাহিত দূষিত বস্তুকণার কারণে অপরিপূর্ণ শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ভারতের নারায়ণা হেল্থ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. দেবী প্রসাদ শেঠী হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন।