
চবি প্রতিনিধি : তিন্নি দাশ। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছেন সবে। বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ গ্রামে।স্বপ্ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পড়ার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আজ বুধবার চবিতে ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসেন। বেলা ৯টা ৪৫ মিনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিন্নি। এরপর সঠিকভাবে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে বেলা ১২টায় বের হন কেন্দ্র থেকে। তিন্নির স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী হয়েছিলেন বাবা মৃণাল দাশ।
বাড়ি ফিরে যেতে বেলা দেড়টার ট্রেনে উঠেন তিন্নি ও তার বাবা। শিক্ষার্থীদের গাদাগাদিতে শাটলে নেই বিন্দু মাত্র জায়গা।তার উপর ভ্যাপসা গরম। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই খারাপ লাগা শুরু হয় তিন্নির বাবার। এরপর হয় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনা। যা তিন্নির জীবনে কে ঢেকে দেয় কালো মেঘের ছায়ায়। মৃণাল দাশ মাথা ঘুরে পড়ে যান। তারপর চারপাশের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
কিছু শিক্ষার্থী আহত মৃণাল দাশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্টে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় চবি মেডিকেল সেন্টারে। কর্তব্যরত চিকিৎসক চেক করে মৃণাল দাশকে মৃত ঘোষণা করেন।বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান ডাক্তার মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, স্ট্রোক করার পর মেডিকেলে আনার পথে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ খবর শুনতে পেয়ে মুহূর্তেই অন্ধকার নেমে আসে তিন্নির জীবনে। স্বপ্ন পূরণের পথে যিনি সঙ্গী হয়েছিলেন সে বাবা আর নেই। তিনি আর কথা বলবেন না। আর সঙ্গী হবেন না তিন্নির স্বপ্নের পথে। স্বপ্ন পূরণ হয়নি এখনও, তবে চলে গেছেন বটবৃক্ষের সমান বাবা। তিন্নি আর বাবা ডাকতে পারবে না। কেউ আর তিন্নিকে মেয়ে বলে ডাকবে না।
এদিকে এমন ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। সাফায়াত হোসেন নামে ঢাকা থেকে আসা এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, চবির শাটল ট্রেনের অবস্থা খুবই করুণ। আমি সকালে শাটলে করে ক্যাম্পাসে এসেছি মনে হচ্ছিলো দম বন্ধ হয়ে আসছে। তবুও আসতে হয়েছে। না হয় পরীক্ষা দেওয়া হবে না। আমিও দেড়টার ট্রেনে করে শহরে ফিরতে উঠি। তবে এই ঘটনার পর আর সাহস পাইনি। তাই বাসে করেই শহরে ফিরেছি।
আফফান ইয়াছিন নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে যাতায়াত এমনিতেই চরম ভোগান্তিকর। তার উপর এখন তো ভর্তি পরীক্ষা। এখন যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব। তবুও পরীক্ষার্থীদের নিরুপায় হয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা প্রায় শাটলে দূর্ঘটনার খবর শুনতে পাই। কিন্তু এই খবর যেন দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র বলেন, নিহতের পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
