শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নূর হোসেন গণতন্ত্রের প্রতীক : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯, ৫:০২ অপরাহ্ণ


ঢাকা: গণতন্ত্রের আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

শহীদ নূর হোসেনকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘নূর হোসেন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি ১৯৯০ সালের ১০ নভেম্বর বুকে লিখেছিলেন- স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। তিনি জীবন্ত পোষ্টার হয়ে তখনকার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। সে কারণেই তাকে টার্গেট করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।’

‘নূর হোসেন সম্পর্কে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত’ উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নূর হোসেন জীবন্ত প্রতীক হিসেবে আমাদের দেশে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত। তার সম্পর্কে এ ধরণের বক্তব্য অনভিপ্রেত, দুঃখজনক, অগ্রহণযোগ্য। তবে মশিউর রহমান রাঙ্গা যে তা বুঝতে পেরেছেন, সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি গতকাল তার এই বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ও বলেছেন যে, তার এই বক্তব্য সঠিক হয়নি।’

বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির কারণে সিনিয়র নেতারা দল ছাড়ছেন, উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর বাবু গতকাল বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে একটি বটগাছ, যার নিচে মানুষ আসবে, বিশ্রাম নিয়ে চলে যাবে’- এ মন্তব্যের প্রতি তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘গয়েশ্বর বাবুর এ মন্তব্যের পর অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, গয়েশ্বর বাবু নিজে কখন বিএনপি’র গাছতলা থেকে চলে যাবেন?

ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি থেকে তাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দল ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে, বিএনপি ছেড়ে যাচ্ছে, সেই ছেড়ে যাওয়া লিস্টে আরো বহুজন আছে। এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে গয়েশ্বর বাবু হতাশা কাটানো আার আত্মতুষ্টির জন্য এই কথা বললেও তাদের দল ত্যাগ করা তারা ঠেকাতে পারবেন না।’

‘বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি করে’ উলে­খ করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি হচ্ছে ব্রত, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। কিন্তু তাদের (বিএনপি’র) রাজনীতি গত এগারো বছরে মানুষের কল্যাণে আবর্তিত হয়নি। তাদের রাজনীতি সবসময় আবর্তিত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং খালেদা জিয়া- তারেক জিয়ার মামলা-মুক্তি এই বিষয়গুলো নিয়েই। এবং এই বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তোলার জন্য জনগণের ওপর আক্রমণ করা, পেট্রোল বোমা হামলা চালানো-এইসব জঘন্য পথ তারা অবলম্বন করেছে। সেই কারণেই তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তাদের দলের নেতারাও দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়া বিদেশ থেকে যেভাবে দলকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাতে তাদের দলের মধ্যে আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বলে কোনো কিছু নেই। এখানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। সিদ্ধান্ত আসে বিদেশ থেকে। তাদের দন্ডপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত আসে। সে কারণেই তাদের নেতারা আজকে দল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।’

এসময় ‘বিএনপি ছেড়ে যাওয়া নেতারা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারবে কি না’- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির অনেক নেতাই দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য অনেকদিন ধরে চিন্তাভাবনা করছেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে যে যোগাযোগ রাখছেন না, তা নয়।’

‘কিন্তু আওয়ামী লীগ যাকে-তাকে দলে নেয়ার জন্য বসে নেই; আওয়ামী লীগ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, জনগণের মধ্য দিয়ে আসা একটি দল; আওয়ামী লীগে যোগদান করতে চাইলেই সবাইকে নেয়া সম্ভবপর নয়’, বলেন তথ্যমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক আদালতে মামলায় মায়ানমারের ওপর চাপ বাড়বে

মায়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিচার ও তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া যে মামলাটি করেছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকবৃন্দ তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গাম্বিয়া আসলে ওআইসির সিদ্ধান্তক্রমে মামলাটি করেছে। আপনারা জানেন, কিছু দিন আগে ওআইসি সম্মেলনের সিদ্ধান্তক্রমে গাম্বিয়া ওআইসির পক্ষ থেকে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে মামলা দায়ের করে। এবং এই মামলার সাথে ৫৬টি ওআইসিভুক্ত দেশের রেজুলেশন যুক্ত আছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করা হচ্ছিল, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো শুরু হয়েছিল, তাদের ওপর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হওয়া শুরু হয়েছিল, তখন কিন্তু ওআইসি সম্মেলন ডাকেনি বরং এরপরে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রেক্ষিতে ওআইসি সম্মেলন ডেকেছিল। স¤প্রতি ওআইসি’র আরো একটি সম্মেলনের সিদ্ধান্তক্রমেই ওআইসি’র পক্ষ থেকে গাম্বিয়া এই মামলাটি করেছে কোর্ট অব জাস্টিসে, যেখানে অন্যান্য দেশের সাথে গাম্বিয়া এবং মায়ানমারও ‘সিগনেটরি’। আমি মনে করি, এই মামলার প্রেক্ষিতে মায়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরো বাড়বে। এবং আশা করবো, তারা আরো দ্রুত তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।’