
চট্টগ্রাম : বক্তৃতার একপর্যায়ে অডিয়েন্স থেকে হাততালি দিলে নিরুৎসাহিত করেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। তিনি বলেন, আপনারা হাততালি দেবেন না। হাততালি দেন, বক্তাদের উৎসাহ দেন, কিন্তু ঘরে গিয়ে সব ভুলে যান। এটাই হচ্ছে আপনাদের কালচার। ‘নো মোর হাততালি’। এমপির বাংলা-ইংলিশ মিশেলে এই কথার পর অডিয়েন্সজুড়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
এমপি লতিফ বলেন, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী তলদেশ দিয়ে টানেল হয়ে যাচ্ছে। টানেলের জন্য চট্টগ্রামের মানুষের দাবি ছিল না, আন্দোলন ছিল না। অথচ কর্ণফুলী নদীর উপর একটি সেতুর জন্য চট্টগ্রামের মানুষকে ১২ বছর আন্দোলন করতে হয়েছে। এখন কিছুর জন্যই আন্দোলন করতে হয় না। চাওয়ার আগে চট্টগ্রামের মানুষ পেয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে একসাথে পাঁচটি ইকোনমিক জোন হচ্ছে। হাততালির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগুলো করছেন না। দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এসব করে যাচ্ছেন।
বিশেষায়িত শিক্ষার উপর জোর দিয়ে সংসদ সদস্য এম এ লতিফ বলেন, বিশেষায়িত শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। যার যেটা প্রতিভা আছে, দক্ষতা আছে সেবিষয় নিয়ে এগোলে অবশ্যই দেশ এগিয়ে যাবে। কোরিয়া যাচ্ছে টেকনিক্যাল জ্ঞান ও কারিগরী শিক্ষা দিয়ে। আমাদের দেশে কেউ একজন গার্মেন্টস কারখানা করলো, সবাই সেদিকেই ছুটছে। নতুন কিছু আবিষ্কার নেই। যার যে ব্যবসা সে ব্যবাসয় আইডিয়া ও অভিজ্ঞতা না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে। লোকসান হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশেষায়িত শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনে সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার বিকেলে নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপ কমিটি আয়োজিত ‘শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের এক দশক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন সাংসদ এম এ লতিফ।
আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ কমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহম্মদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।
