চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণির গ্রেফতার, কারাদন্ড ও অস্ত্র আইনে মামলার জন্য প্রশাসনের ভেতরে থাকা জামায়াতের এজেন্টরা দায়ী বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু এ অভিযোগ করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রণিকে ফাঁসানোর পেছনে নগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার দূরত্ব নয়, প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত এজেন্টই দায়ী। রণিকে ছলে-বলে কৌশলে ফাঁসিয়ে দেয়ার একটি ছক আগে থেকেই তৈরী করে রাখা হয়েছিল। নির্বাচনী ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হারুন অর রশিদ এবং হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল মিলে এই ছক তৈরী করেছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৭মে মির্জাপুর ইউনিয়নে নির্বাচন চলাকালীন নূরুল আজিম রণি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছিলেন এবং তিনি কখনো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেননি। ওই ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কোনো ধরনের গোলযোগ, অনিয়ম, ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে করেননি। এছাড়া কোনো প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে কোনো ধরনের অভিযোগ করেননি। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, নূরুল আজিম রণিকে ছলে-বলে কৌশলে ফাঁসিয়ে দেওয়ার একটি ছক আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছিল।
আরো বলা হয়, নির্বাচনী বিধিবিধান লঙ্ঘনের কারণে কোনো অপরাধীর সাজা তিন দিন, সাত দিন বা এক মাসের বেশি হতে পারে না। চলমান ইউপি নির্বাচনে দেশের কোথাও নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কাউকে দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়নি। এছাড়া একটি কথিত অপরাধের জন্যে দুই বছর সাজা দেওয়ার পরও রণির বিরুদ্ধে ভুয়া জব্দ তালিকা দিয়ে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা বিধিসম্মত নয়। একজনকে সাজা দেওয়ার পর আরেকটি মামলা দায়ের করা উদ্দেশ্যমূলক, যাতে রণি জামিনে বেরিয়ে এলেও অপর মামলায় তাকে আটক দেখানোর পাঁয়তারা মাত্র। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, রণিকে সাজা দেওয়া হয়েছে একজন সাব ইন্সপেক্টরের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে। মামলায় বিজিবির দায়িত্বরত কর্মকর্তা বা তাদের সাথে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটকে সাক্ষী করা হয়নি। আমরা মনে করি ওই ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিহিংসামূলকভাবে আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে রণিকে গ্রেফতারের ঘটনাটি সাজিয়েছেন।
এছাড়া লিখিত বক্তব্যে রণিকে আটক ও কারাগারে পাঠানোর জন্যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারু অর রশিদ ও হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল হোসেনের ছাত্রজীবনে ‘শিবির কানেকশন’র বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভেতরে থাকা জামায়াত এজেন্টদের অপসারণ করে রণির বিরুদ্ধে চক্রান্তের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে সরকারের প্রতি আবেদন জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নগর ছাত্রলীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত গত ৭ মে দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর থেকে নির্বাচনে দায়িত্বরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রণিসহ নয়জনকে আটক করে বিজিবি। এসময় রনির কাছে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়।
