
ঢাকা : নতুন মেরিটাইম আইনে জলদস্যুতার সাজা যাবজ্জীবন, এ ধরণের অপরাধে কেউ মারা গেলে মৃত্যুদণ্ড এবং সহায়তা করলে ১৪ বছরের সাজা ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম অঞ্চল আইন, ২০১৯’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দাকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জলদস্যুতা, সশস্ত্র চুরি, সমুদ্রে সন্ত্রাস এবং চুরি করতে গিয়ে কেউ খুন হলে সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে। আর সাধারণ কোনো ব্যক্তি জলদস্যুতা বা সমুদ্রে সন্ত্রাস করলে তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দস্যুতা করে নেয়া সম্পদ ফরফিট (বাজেয়াপ্ত) করে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি জলদস্যুতা বা সমুদ্রে সন্ত্রাস বা সংঘটনের চেষ্টা বা সহায়তা করলে অনুর্ধ্ব ১৪ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। আর কেউ সহযোগিতা করলেও ১৪ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। রাষ্ট্রীয় জলসীমায় চলাকালীন কোনো বিদেশি জাহাজে কোনো অপরাধ হলে অপরাধী গ্রেপ্তার ও দন্ত পরিচালনায় একই বিধান কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুনীল অর্থনীতির উপর গুরুত্ব প্রদান করছে। সুনীল অর্থনীতি ও সমুদ্র সম্পদের টেকসই অনুসন্ধান ও আহরণ হতে সর্বোচ্চ উপযোগিতা প্রাপ্তির পূর্ব শর্ত হলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সঠিক মেরিটাইম অঞ্চল নির্ধারণ। আইন প্রণীত হলে তা ব্যাপক ভিত্তিক মেরিটাইম অঞ্চল নির্ধারণসহ অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্রীয় ও জলসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল, এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে সমুদ্র সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।
এছাড়া জলসদ্যুতা, সমুদ্র সন্ত্রাস, সমুদ্র দূষণসহ সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধসমূহ এবং নৌ চলাচল নিরাপত্তা বিঘ্নকারী বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সামগ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সুষ্ঠু সমুদ্র ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মেরিটাইম সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে এই আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যোগ করেন তিনি।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
একুশে/এএ
