ব্যতিক্রমী সমাজচিন্তক মোরশেদ আলমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


চট্টগ্রাম : ব্যতিক্রমী সমাজচিন্তক, মানবসেবার ‘ফেরিওয়ালা’ খ্যাত জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (শনিবার)।

এ উপলক্ষে প্রয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কবর জেয়ারত, খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এছাড়াও এ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে কদম মোবারক এতিমখানায় পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে অকাল প্রয়াত মোরশেদ আলমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় শরীক হতে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রয়াতের সহধর্মিণী সৈয়দা শারমিন হায়াত।

মোরশেদ আলম চীনে মটর পার্টস সংক্রান্ত একটি মেলায় অংশ নিয়ে ফিরে আসার আগমুহূর্তে গত বছরের ৩০ নভেম্বর ভোরে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে তিনদিনের জন্য তিনি দক্ষিণ কোরিয়া যান। সেখানে অবস্থানকালে প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, দূতাবাস কর্মকর্তাদের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠান-আলোচনায় অংশগ্রহণ শেষে চীন যান। আন্তর্জাতিক মটরপার্টস মেলায় অংশগ্রহণ শেষে চীন থেকে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আর ফেরা হয়নি। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে জাগতিক সকল হিসাব চুকিয়ে দিয়ে চলে গেলেন তিনি অনন্ত, অসীমে।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর সকালে বাংলাদেশের উদ্দেশে তার যাত্রা করার কথা ছিল। এজন্য যথারীতি প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ গাড়ি ও চালক। হোটেলকক্ষ থেকে বের হতে দেরি হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা হোটেলকক্ষে গিয়ে দেখেন মেঝেতে পড়ে আছেন মোরশেদ আলম। আকস্মিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ততক্ষণে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

দুই দেশের দূতাবাস সংক্রান্ত নানা জটিলতা শেষে ১৪ ডিসেম্বর মোরশেদ আলমের মরদেহ দেশে আনা হলে ওইদিনই চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে জানাজা শেষে কদম মোবারক এতিমখানা মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মোরশেদ আলম স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে রেখে যান।

বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত মোরশেদ আলম সমাজ ও মানবসেবার মধ্যদিয়ে একটি অনন্য, ব্যতিক্রম চরিত্রের মানুষ হিসেবে পরিচিত পান সর্বমহলে। সদা হাস্যোজ্জ্বল, সজ্জন, সদালাপী, বন্ধুবৎসল, আপাদমস্তক পরোপকারী এই মানুষটির আকস্মিক মৃত্যুর পর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।

মন্ত্রী, এমপি, মেয়রসহ হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশ নিয়ে মোরশেদ আলমের জন্য চোখের জল ফেলতে দেখা যায়। লালদিঘীর জানাজায় সমস্বরে একটি বাক্যই সেদিন উচ্চারিত হয়েছিল-প্রচলিত সমাজব্যবস্থা আর রাজনীতিতে মোরশেদ আলমের মতো বহুরৈখিক মানবসাধনার মানুষ সত্যিই বিরল, দুর্লভ। আর দুর্লভরাই এভাবে স্বজন-শুভার্থীদের আজীবন চোখের জলে ভাসানোর ব্যবস্থা করে দিয়ে বিদায় নেন, চলে যান সমস্ত কিছুর উর্ধে।