চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ১৮ ও ১৯ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নয় হাজার ৬১২ জন প্রাক্তন ও ২০ হাজার ৯০১ জন বর্তমান শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলন করে এস কর্মসূচি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার বিকাল ৩টায় চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে সিআরবি শিরীষতলা পর্যন্ত শোভাযাত্রা হবে। শোভাযাত্রার পর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে অভ্যর্থনা। শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সুবর্ণ জয়ন্তী বক্তা থাকবেন প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান।
দ্বিতীয় দিন বিশেষ অতিথি থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, ভ’মি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর।
এছাড়া সম্মানিত অতিথি থাকবেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।
অনুষ্ঠানের প্রথমদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় জিইসি কনভেনশন সেন্টারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন রুনা লায়লা, সন্দীপন ও হৈমন্তি রক্ষিত মান। শেষ দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেয়া হবে। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবে লালন, আরসেল ও ওয়ারফেজ ব্যান্ড দল।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তার গৌরবের ৫০ বছর পূর্ণ করছে। সে উপলক্ষে এই সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান হলো প্রাক্তনদের সঙ্গে বর্তমানদের মেলবন্ধন ও মিলনমেলার জন্য।
তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্ররা আজ দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদের মধ্যে আজ ১১ জন সচিব, ৩০জন অতিরিক্ত সচিব। এছাড়া প্রধান বিচারপতিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক গুণিজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি দেশের অন্যতম বুদ্ধিজীবী ড. আনিসুজ্জামান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, আমরা অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদের গৌরবপূর্ণ এসব খবর জানি না। সুবর্ণজয়ন্তীর মাধ্যমে তা জানার সুযোগ আসবে। আমি জোবরা গ্রামের ছাত্র ছিলাম, আমি চবির ছাত্র ছিলাম-এই গৌরব জানাতেই সুবর্ণজয়ন্তী।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপারাজেয় বাংলা’র আদলে চবি ক্যাম্পাসেও একটি মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য স্থাপনের ঘোষণা দেন। সিন্ডিকেট-সিনেটের অনুমতি সাপেক্ষে খুব দ্রুতই এই ভাস্কর্য স্থাপন কাজ শুরু হবে।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক ভিপি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল হক শাহ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
