
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) যোগ্যতা নয়, সহানুভূতি বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে এম.ফিল ডিগ্রী। যোগ্যতা না থাকার পরও চবির বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ ভুঁইয়া এই ডিগ্রী পান।
নেয়ামত উল্যাহ ভুঁইয়ার থিসিসের বিষয় ছিল ‘বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ভাষা বৈচিত্র্য: পরিপ্রেক্ষিত ধ্বনিতত্ত্ব’। থিসিসটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন চবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম। পরে থিসিসটির উপর সুপারিশ করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মু. দানীউল হক ও ঢাবির ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের কাছে পাঠানো হয়।
ওই থিসিসের সুপারিশে তিনজন অধ্যাপকই স্পষ্ট করে লিখে দিয়েছেন, ‘ইহা প্রকাশের যোগ্য নহে।’ অথচ সেই থিসিসের বিষয়টিকেই বই হিসেবে প্রকাশনা বের করে চবির সহকারি অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ ভুঁইয়া।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহকারি অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য ৯ বছর শিক্ষকতা করতে হয়। কিন্তু শিক্ষকতার বয়স কম থাকার বিষয়টি কাটাতে ৩ পয়েন্ট পাওয়ার জন্য প্রকাশের অযোগ্য সেই এমফিল থিসিসকে নেয়ামত উল্যাহ ভুঁইয়া বই আকারে বের করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সেই ‘বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ভাষা বৈচিত্র্য: পরিপ্রেক্ষিত ধ্বনিতত্ত্ব’ থিসিসটি দিয়ে এমফিল ডিগ্রী অর্জন কতটা যুক্তিযুক্ত সেই বিষয়েও প্রশ্ন আছে। নেয়ামত উল্যাহ ভুঁইয়া থিসিসের সুপারিশ নামায় অধ্যাপক মহাম্মদ দানীউল হক ২০১৩ সালের ১৯ অক্টোবর উল্লেখ করেছেন, ‘পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সন্দর্ভের জন্য গবেষণা ডিগ্রি এম.ফিল প্রদানের সুপারিশ করা যায় না। তবে দুটি বিষয় আমরা বিবেচনা করতে চাই-গবেষকের আগ্রহ বা আন্তরিকতা এবং পরিশ্রম। তাঁর পদ্ধতিগত বিভ্রান্তি এবং অপূর্ণতা আছে, কতিপয় ক্ষেত্রে অজ্ঞতা এবং সম্ভবত সময় ও পরিস্থিতিগত সীমাবদ্ধতাও অনুমেয়। ফলত, উপলব্ধি ঘটিত ভুলের কারণে সন্দর্ভটি বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো জোরালো বিষয় হিসেবে এটি দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু গবেষকের আগ্রহ, আন্তরিকতা, পরিশ্রম বিবেচনার সঙ্গে এই সত্য যোগ হতে পারে যে অদ্যাবধি এই উপভাষা ভিত্তিক এধরণের গবেষণা কর্ম বিরল। ইত্যকার সহানুভূতি সূচক বিবেচনায় মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়াকে তাঁর বিরচিত ‘বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ভাষা বৈচিত্র্যঃ পরিপ্রেক্ষিত ধ্বণিতত্ত্ব’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য এম.ফিল ডিগ্রি দেয়া যায়।’
সুপরিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এই অভিসন্দর্ভ বা এর অংশ বিশেষ যথাবস্থায় প্রকাশের যোগ্য নয়।’ অথচ মো. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেই অভিসন্দর্ভটি প্রকাশনা করে পদোন্নতির আবেদন করেছেন। এজন্য বিধি বহির্ভূতভাবে শুধুমাত্র থিসিসটির তত্ত্বাবধায়ক ও চবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেমের কাছ থেকে একটি লিখিত নেয়া হয়েছে, যেখানে থিসিসটি প্রকাশনা হিসেবে বের করতে সমস্যা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও থিসিসটি বই আকারে প্রকাশ করতে অধ্যাপক মহাম্মদ দানীউল হক ও ঢাবির ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ অনুমতি দেননি।
এদিকে শিক্ষাছুটি নিয়ে চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার অভিযোগও আছে চবির বাংলা বিভাগের শিক্ষক নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একুশে পত্রিকার প্রতিবেদক পরিচয় পেয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজী হননি। তিনি জানান, মায়ের অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে কথা বলবেন।
থিসিসের যৌক্তিকতা ও নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কেন সুপারিশ করা হলো- জানতে চাইলে সুপারিশকারী প্রফেসর মহাম্মদ দানীউল হক উল্টো প্রশ্ন করেন এসব কাগজপত্র কীভাবে পেয়েছেন? তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, এ বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল কিছু জানতে চাইলে আমি জবাব দেব। গণমাধ্যমে এ বিষয়ে আমি কিছুই বলবো না।
