চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ১৯৮৮ সালে শেখ হাসিনার সমাবেশে পুলিশের গুলিতে ২৪জন নিহতের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন এক সাংবাদিক ও আইনজীবি। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রুহুল আমিনের আদালতে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন তারা।
এই দুইজন হলেন- তৎকালীন দৈনিক আজাদীর সিনিয়র রিপোর্টার ও প্রবীণ সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র লালা।
হেলাল উদ্দিন চৌধুরী আদালতকে জানান, ঘটনার দিন শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আসার পর পুলিশ প্রথমে টিয়ার শেল, পরে এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ ও গুলি ছুঁড়ে। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে নালায় পড়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ট্রাকটি বেস্টন করে ছিল। ট্রাকের হেলপার আব্দুল মান্নান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। বেশ কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিল।
এসময় শেখ হাসিনা বারবার মাইকে গুলি বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছিলেন। আমি কোতয়ালির ওসি সাহাবুদ্দিনকে জিজ্ঞেস করি-শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গুলি চালালেন কেন? তিনি বলেন ওপরের অর্ডার আছে। পিআই জে সি মন্ডল বলেন, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অ্যাকশনে গিয়েছেন।
এই মামলায় মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দেন তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র লালা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন জানান, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নগরীর লালদিঘি ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন। আহত হন কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ। তিন মাস আগে মামলাটি বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর হয়ে এলে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
হেলাল উদ্দিন চৌধুরী এবং সুভাষ চন্দ্র লালার সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এই মামলায় ৪১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আদালত ৩১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী সময় নির্ধারণ করেছেন।
