মাফিয়াদের হাতে জিম্মি বলা হলেও বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে

shajahanচট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে বলে দাবি করে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, মাফিয়া বলুক আর ডাকাতই বলুক, যতই তাদের হাতে জিম্মি বলা হোক, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন হচ্ছে।

বুধবার ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট (এনএমআই) নবনির্মিত ট্রেনিজ হোস্টেল ভবনের উদ্বোধন ও ১৬তম ব্যাচের পাসিং আউট অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। হোস্টেল ভবনের তৃতীয় তলায় সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বন্দরের উন্নয়নে যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে। বিশ্বের ১০০টি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর আগে ৯৬তম স্থানে ছিল। বিগত ৮ বছরে সে অবস্থান থেকে ২২ ধাপ এগিয়ে এসেছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন হচ্ছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছেন চট্টগ্রাম বন্দর ডাকাতদের হাতে পড়েছে, মাফিয়াদের হাতে পড়েছে। যে যাই বলুক না কেন, বন্দর ৮ বছরে ২২ ধাপ এগিয়েছে। তার মানে বন্দরের উন্নয়ন হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ করে বন্দরের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সাল থেকে নৌ সংস্থাগুলোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আগে নদী খননের জন্য আমাদের তেমন কোন ড্রেজার ছিল না। বর্তমানে আমাদের ২১টি ড্রেজার আছে। আরও ২০টি কেনা হবে। আজকে (১৬ নভেম্বর) বিকেলেই ১০টির নির্মাণকাজ শুরু হবে।

এনএমআইর নাবিকদের উদ্দেশে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে ৩৬টি জাহাজ সংগ্রহ করা হবে। এতে নাবিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্লু ইকোনমি আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই এ খাতে অর্থ উপার্জনের জন্য নাবিকদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হবে। সাহস ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোলেই সফল হওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন ফয়সাল আজিম।

প্রসঙ্গত প্রশিক্ষণার্থীদের সুষ্ঠু আবাসনের জন্য ৬তলা বিশিষ্ট ট্রেনিজ হোস্টেল ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় নির্মাণ করা হয়। নবনির্মিত ট্রেনিজ হোস্টেল ভবনের নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ব্লক’।