সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

ইসিকর্মীদের যাতে অযথা হয়রানি করা না হয় : নির্বাচন কমিশনার

প্রকাশিতঃ শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯, ৪:৩২ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: রোহিঙ্গাদের ভোটার করার মামলায় অযথা যাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাউকে হয়রানি করা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম।

শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় নগরের সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় আছি। একটা সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। কিন্তু অযথা যাতে কাউকে হয়রানি করা না হয় সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে। বিষয়টি দেখভালের জন্য আমাদের নিজস্ব একটি তদন্ত টিমও আছে। তারা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো কারো নাম বলতে পারে। আসলে সে জড়িত কিনা সেটাও খুঁজে বের করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমি অনুসন্ধানের বিপক্ষে নই। আবার এটাও না যে, ইচ্ছা হলেই তদন্তের নামে একজন জেলা কর্মকর্তা কিংবা রিটার্নিং অফিসারকে তুলে নিয়ে চলে গেলেন- যার সঙ্গে ভোটার করার কোনও সম্পৃক্ততাই নেই। ভোটার হতে কিছু কাগজপত্র দরকার হয়। এগুলো কোথা থেকে আসে সেটা খুঁজে বের করা দরকার। জন্মসনদ সহ বিভিন্ন সার্টিফিকেটগুলো যারা দিচ্ছে, কিভাবে দিচ্ছে- সেটা খুঁজে বের করা দরকার। যদি এ অনিয়ম সমূলে উৎপাটন করতে হয় তাহলে স্থানীয় পর্যায় থেকে অনুসন্ধান করতে হবে।

বেগম কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত যাতে আইনশৃঙ্খলার কোনও ধরনের অবনতি না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সবকিছু নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তাহলে কেউ কথা বলবে না। শুধু চিঠি দিলে হবে না, ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করতে হবে। তাছাড়া নির্বাচনের সময় এমন কোনও পরিস্থিতি চাই না, যেখানে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে।

সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে বিজিবি-৮ এর পরিচালক লে. কর্নেল মো. মুনীর হোসেন, পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা, সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদিনসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা। তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগ আনা হয়।

এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানার নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ওই মামলায় এরইমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে গত ১১ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুটি আলাদা মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।