সুবর্ণজয়ন্তীতে সাম্প্রদায়িক খাবারে বিব্রত অতিথিরা

15129967_1302329553152964_330107566_nচট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের প্রথম দিনের মেজবানে খাবার পরিবেশনের পর অতিথিদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে মেজবান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার কামরুল হুদা স্বাক্ষরিত পত্রিকার বিজ্ঞাপন অনুযায়ী সাবেক শিক্ষার্থীরা দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন করে। নিয়ম অনুযায়ী যারা দেড় হাজার টাকা পরিশোধ করে রেজিস্ট্রেশন করেন, তাদেরই কেবল প্রথমদিনের আয়োজনে প্রবেশের কার্ড সরবরাহ করা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, শুক্রবার রাত ৮টা থেকে শুরু হয় খাবার পরিবেশন। জিইসি কনভেনশন সেন্টারজুড়ে বসানো কয়েক’শ টেবিলে অতিথির জন্য গরুর মেজবানি মাংস পরিবেশন করা হচ্ছে। দুই থেকে তিনটি টেবিলের পাশে এ-ফোর সাইজের কাগজে ছোট অক্ষরে লিখে দেওয়া হয়েছে ‘নন বিফ’। যা প্রায় বিশ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সরগরম কনভেনশন হলে কোন অমুসলিমের চোখে পড়েনি। ফলে মুসলিম-অমুসলিম সবাই একই টেবিলে বসে পড়ে। এরপর খাবার সামনে নেওয়ার পর বিব্রত হতে হয় সবাইকেই। খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে যেতেও দেখা গেছে অনেককে।

আবার ছোট কাগজে ‘নন বিফ’ লিখা না দেখে টেবিলে বসে পড়া মুসলিমদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কারণ অনেকেই এসব টেবিলে অমুসলিম ও মুসলিমদের বসা নিয়ে জুড়ে দিয়েছেন তর্ক। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কনভেনশন হলের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনার টেবিলটিতে এ বিষয়টি নিয়ে তর্ক হয় উপস্থিত অনেকের মধ্যে।

একজন বলেন, মুসলিম যারা এখান থেকে উঠে যান। অন্যজন বলেন, হিন্দু যারা উঠে যান। একপর্যায়ে তা রুপ নেয় ঝগড়াতে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা ঝগড়ারতদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

এ সময় তিনি এ প্রতিবেদককে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে ধর্মীয় আচার কিংবা প্রথায় আঘাত আসে এমন খাবার দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন কোনভাবেই উচিত হয়নি। এখানে বিভাজন স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দশ বন্ধু মিলে একসাথে এসেছে অনেকে। তাদের মধ্যে একেকজনের ধর্ম একেকরকম হতে পারে। যেভাবে খাবার মেন্যু ঠিক করা হয়েছে খাওয়ার সময় একেকজন একেক টেবিলে গিয়ে বসতে হল। যা খুবই বেমানান, অপ্রত্যাশিত।’

চবি ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, আয়োজকদের অবশ্যই উচিত ছিল খাবারের ক্ষেত্রে অসাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া। খাবারের কয়েকটি টেবিলের পাশে ছোট করে নন বিফ লিখে দিয়ে আয়োজকরা গোটা অনুষ্ঠানটির আমেজটাই নষ্ট করে ফেলেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কারণ শত শত খাবার টেবিলে একসাথে পরিচিতরা বসে শুধুমাত্র খাবারের পার্থক্য থাকায় একসাথে খেতে পারেনি। এ জন্য অনেককেই বিব্রত হতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামরুল হুদা একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এত বড় একটা প্রোগ্রামে এরকম কিছু সমস্যা তো থাকবে। তাছাড়া এটা তো সবার মিলনের একটা প্রোগ্রাম, খাওয়ার নয়। এ নিয়ে অতিথিদের ক্ষোভ প্রকাশ করার কিছু নেই।’