চট্টগ্রাম: বালিশের উপর দাঁড় করানো দুই পা। গলায় ফ্যানের সাথে বাঁধা মোটা চাদর। চেহারাও স্বাভাবিক। বের হয়নি জিহ্বাও। পরনে জিন্স প্যান্ট। ফুল হাতা শার্টের হাতের বুতামও লাগানো। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক দিয়াজ ইরফানের বেডরুম থেকে এ অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় দুই নম্বর সড়কের বাজার এলাকার পাশের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর দিয়াজের বাসায় উপস্থিত হওয়া একাধিক ব্যক্তি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকে দিয়াজের পরিবার। গতকাল দিয়াজের মা বাসায় ছিলেন না। দিয়াজের কক্ষের জানালা দিয়ে তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে বাসায় ঢোকার পর ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এক্ষেত্রে যে বাসা থেকে দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয় তার পেছনের বারান্দা খোলা ছিল। কেউ হত্যা করে থাকলে ওই পথ ব্যবহার করে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।
সাধারণত আত্মহননকারীর চোখ খোলা থাকে এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। কিন্তু দিয়াজের ক্ষেত্রে চেহারা ছিল স্বাভাবিক। মুখে ফেনা নেই, চোখ ছিল বন্ধ। জিহ্বা বের করা ছিল না। পা দাঁড় করানো ছিল বালিশে। ঠেস দিয়ে দাঁড় করানো ছিল শরীর।
দিয়াজের গলায় ছিল মোটা চাদর। এমন চাদর পেঁচিয়ে কেউ আত্মহনন করতে পারে কিনা- সে প্রশ্নও উঠেছে। এছাড়া যেটা দিয়ে ফাঁস লাগানো হয়, সেটা মাথার ঠিক পেছনে থাকার কথা। কিন্তু দিয়াজের গলায় থাকা ছাদর তার কান বরাবর অনেকটা মুখের সামনেই ছিল।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রোববার রাতেই ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজাসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে দিয়াজের মরদেহ নিতে এসে তার মামা রাশেদ আমিন চৌধুরী বলেন, এর আগে যারা দিয়াজের বাসায় হামলা চালিয়েছে তারাই পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের অতীতেও সংঘর্ষ হয়েছে কিন্তু ছাত্রলীগ নেতাদের বাসায় হামলা, লুট, ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগের একাংশের রাজনীতিতে শিবির ঢুকে পড়ায় ন্যক্কারজনক ও নজিরবিহীন এ ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, দিয়াজ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকায় সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া এ ঘটনার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়গামী সকল ট্রেন আটকে দিয়েছেন দিয়াজের অনুসারীরা।
