চট্টগ্রাম: মিয়ানমারে সেনা নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদেরকে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ শেষে আন্দরকিল্লা থেকে মিছিল শুরু হয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে হেফাজতে ইসলামীর মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আপনার সরকার জনগণের সরকার। তাই আপনাকে জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
তিনি বলেন, কূটনৈতিক উপায়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আমরা ১ ডিসেম্বর গণমিছিল করব, ২ ডিসেম্বর মিয়ানমার দূতাবাসে স্মারকলিপি দিব। এরপরও যদি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা না থামে, তাহলে কোটি কোটি মুসলমানকে সাথে নিয়ে আমরা মিয়ানমারমুখী লংমার্চ করব। এটা সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। মুসলিম রোহিঙ্গার প্রাণ ও অধিকার রক্ষায় আমরা আন্দোলন করছি।
হেফাজতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আমাদের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের (ক) ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে প্রতিবেশী কোনো জনগোষ্ঠী জাতিগত, বর্ণগত কোনো নিপীড়নের শিকার হলে তাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিবে। সংবিধান মেনে রোহিঙ্গাদের এ দেশে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অনুপ্রবেশ করা ভারতীয় হাতির জন্য সরকার লাখ লাখ টাকা খরচ করে অথচ রোহিঙ্গাদের হাতির মর্যাদাও দেওয়া হচ্ছে না।
হেফাজতের নায়েবে আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী ও চট্টগ্রাম নগর সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
