বন্ধু যখন চোর…


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরে একজন শিক্ষার্থীর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় তার বন্ধু মঈনুল হক বাবুকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। একই ঘটনায় বাবুর দুই সহযোগিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার থেকে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডির আব্দুল হকের ছেলে মঈনুল হক বাবু (২২), নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার হাজিরপুল হাবিব বলির বাড়ীর নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. আরমান (২২) ও একই থানার হাজীপাড়া মাওলানা খলিলুর রহমানের বাড়ীর মো.মোক্তারের ছেলে মো. রাসেল (২৮)।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে বন্ধু মঈনুল হক বাবুকে নিয়ে সিআরবি এলাকায় যান মোবারক হোসন বাধন। এরপর মোটরসাইকেলটি রেখে তারা চা পান করতে যায়। ফিরে এসে মোটরসাইকেল না দেখে কেতোয়ালী থানায় মামলা করেন বাধন।

পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা শেষে পুলিশ জানতে পারে, আগে থেকে অবস্থান করা বাদীর বন্ধু মঈনুল হক বাবু তার অপর এক সহযোগির মাধ্যমে কৌশলে মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে গেছে। এরপর মঈনুল হক বাবুকে গ্রেপ্তারের পর তার তথ্যমতে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যমতে রাসেলকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ষ্টেশন, পার্ক, রেঁস্তোরার সামনে আড্ডাবাজি করাকালে বিভিন্ন মোটরসাইকেল চুরির উদ্দেশ্য ঘটনাস্থলের চারপাশে রেকি করে। নির্দিষ্ট মোটরসাইকেল চুরি করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পৌঁছানোর পর ওই মোটর সাইকেলের মালিকের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেলে ঘোরার কথা বলে কৌশলে নকল চাবি বানিয়ে নিজের আয়ত্বে নেয়।

তিনি বলেন, যদি কোনো টার্গেট মোটরসাইকেল কোনো স্থানে পার্কিং অবস্থায় থাকে আসামীদের কোনো একজন ঐ মোটর সাইকেলের মালিকের সাথে কথাবার্তা বলতে বলতে মালিককে অন্যদিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করে রাখে। এ সুযোগে অপর আসামীরা দ্রুত গতিতে ঐ ব্যক্তির মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরি করার পর আসামীরা সবাই শলা-পরামর্শ করে মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য কোনো গোপন স্থানে তা লুকিয়ে রাখে।

এ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবত নগরীতে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল বলে জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন।